
মায়ের ঋণ (একাঙ্কিকা নাটক)
সময়: প্রায় ২৫ মিনিট
ভাষা: বাংলা
ধরন: পারিবারিক ও সামাজিক নাটক
চরিত্রাবলি
১. সাবিত্রী দেবী — প্রায় ৬৫ বছর বয়সী মা। বিধবা। সারাজীবন পরিশ্রম করে সন্তানদের মানুষ করেছেন।
২. অরুণ — বড় ছেলে, স্কুলশিক্ষক। বিবাহিত।
৩. মীনা — অরুণের স্ত্রী।
৪. বরুণ — ছোট ছেলে, ব্যাংকের ক্যাশিয়ার। বিবাহিত, শহরে থাকে।
৫. রীতা — বরুণের স্ত্রী।
৬. মিতা — সাবিত্রী দেবীর মেয়ে। শিক্ষিতা, চাকরির চেষ্টা করেও চাকরি পায়নি। টিউশনি করে। অবিবাহিতা।
৭. হরিপদ কাকা — প্রতিবেশী, পরিবারের শুভাকাঙ্ক্ষী।
দৃশ্য ১
মঞ্চসজ্জা:
একটি সাধারণ গ্রামের বাড়ি। এক পাশে কাঠের খাট, একটি পুরোনো চেয়ার, টেবিল। টেবিলের ওপর কয়েকটি ওষুধের শিশি। দেওয়ালে পুরোনো একটি পারিবারিক ছবি। সাবিত্রী দেবী খাটে বসে আছেন। হাতে পুরোনো শাড়ি সেলাই করছেন।
(আলো জ্বলে।)
সাবিত্রী:-আর কতদিন পারব জানি না। হাত-পা দুটোও আর আগের মতো চলে না। তবু মনের মধ্যে একটা শান্তি আছে—আমার ছেলেমেয়েগুলো মানুষ হয়েছে। ওদের মুখের দিকে তাকালেই আমি সব কষ্ট ভুলে যাই।
(ওষুধ হাতে মিতার প্রবেশ)
মিতা:- মা, একা একা বসে কী করছ?
সাবিত্রী: কি আর করব। কাজ নাই তাই এমনি এমনি বসে আছি। তুই এলি? টিউশনি শেষ হলো?
মিতা:-হ্যাঁ মা। আজ তিনটে বাড়িতে পড়িয়েছি। এই নাও, ওষুধটা খেয়ে নাও।
সাবিত্রী:-ওষুধের এত খরচ করিস না মা। আমার জন্য তোকে এত কষ্ট করতে হয়।
মিতা:-কষ্ট কোথায় মা? তোমার জন্য কাজ করতে আমার ভালই লাগে। কষ্ট অনুভব হয়না। তুমি না থাকলে আমি আজ কোথায় থাকতাম?
সাবিত্রী:-মেয়ের মাথায় হাত রেখে। তুই তো আমার মেয়ে নস্, তুই আমার মা।
মিতা:-এমন কথা বলো না মা।আমি তোমার মা নই, আমি তোমার মেয়ে- আদরের মেয়ে।তুমি না থাকলে আমাকে কে দেখবে?
সাবিত্রী:-কেন, তোর দুই দাদা আছে। তারা তোকে দেখবে, আমাকেও দেখবে। আমার আর চিন্তা কী?
মিতা:-(চুপ করে থাকে।)
সাবিত্রী:-কী হলো? চুপ করে আছিস কেন?
মিতা:-কিছু না।
সাবিত্রী:-আবার কি তোর বিয়ের সম্বন্ধ এসেছে?
মিতা:- হ্যাঁ।
সাবিত্রী:- তাহলে এবার আর না করিস না। তোর বয়সও তো কম হলো না।
মিতা:-তোমাকে রেখে আমি কী করে বিয়ে করব?
সাবিত্রী:- তাহলে আমি কি তোর বোঝা?
মিতা:-মা!কি যে বলো তুমি আমার বোঝা হতে যাবে কেন!
সাবিত্রী:-না, সত্যি বলছি। আমার জন্য তোর জীবনটা নষ্ট করিস না।
মিতা:-আমার জীবন নষ্ট হচ্ছে না মা। তুমি আছো— তাই আমি খুব সুখেই আছি।
(ধীরে ধীরে আলো কমে।)
দৃশ্য ২
(মঞ্চে অরুণ ও তার স্ত্রী মীনা।)
অরুণ:-মা’র ওষুধের খরচ আবার বেড়েছে।
মীনা:-তুমি তো মাসের শেষে এমনিতেই টানাটানিতে থাকো। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা, বাড়িভাড়া, বাজার—সব মিলিয়ে সংসার চালানো কঠিন।
অরুণ:-জানি। কিন্তু মা’কে তো কিছু দিতে হবে।
মীনা:-তুমি কি একা ছেলে? বরুণও তো আছে।
অরুণ:-ও তো শহরে থাকে।
মীনা:-তাহলে? শহরে থাকলে কি তার দায়িত্ব নেই?
অরুণ:-কাল ওকে ফোন করব।
মীনা:-ফোন করে বলো, মা’র খরচের দায়িত্বটা এবার থেকে সে নিক।
দৃশ্য ৩
(বরুণ ও রীতা শহরের বাড়িতে।)
বরুণ:-দাদা ফোন করেছে। মা’র শরীর নাকি ভালো যাচ্ছে না।
রীতা:-মাসে ওষুধের খরচ কত?
বরুণ:-জানি না। খরচ তো দাদাই দেয়।
রীতা:-বড় ছেলে হিসেবে তারইতো দায়িত্ব বেশি। তাছাড়া চোখের সামনে থাকে, তাই তাকেই তো দায়িত্ব নিতে হবে।
বরুণ:-দাদা বলছিল, আমরা দু’ভাই মিলে মাসে একটা নির্দিষ্ট টাকা দিলে ভালো হয়।
রীতা:-আমাদের নিজেদের খরচই তো কম নয়। বাড়িভাড়া, ছেলের স্কুল, বাজার, বিদ্যুৎ—সব মিলিয়ে মাস শেষ হওয়ার আগেই টাকা শেষ হয়ে যায়।
বরুণ:-কিন্তু মা তো আমাদেরও।তাই আমাদের তো দায়িত্ব আছে।
রীতা:-তা ঠিক। কিন্তু তুমি তো জানো, শহরের জীবন কত ব্যয়বহুল।
বরুণ:-হুম।তা অবশ্যে ঠিক।
রীতা:-তুমি দাদাকে বলো, তোমার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব নয়।
বরুণ:-আর মিতা?
রীতা:-মিতা তো মায়ের সঙ্গেই থাকে। ও দেখুক না।
বরুণ:-ও তো নিজেই বেকার।
রীতা:-বেকার হলেও টিউশনি করে কিছু তো উপার্জন করে।
বরুণ:-দীর্ঘশ্বাস ফেলে। ঠিক আছে। দেখি কী করা যায়।
দৃশ্য ৪
(আবার গ্রামের বাড়ি। অরুণ ও বরুণ ও মিতার মঞ্চে প্রবেশ।)
অরুণ:-বরুণ, মা’র ওষুধ, ডাক্তার, খাবার—সব মিলিয়ে মাসে বেশ কিছু টাকা লাগে।
বরুণ:-আমি জানি দাদা। কিন্তু শহরে আমারও অনেক খরচ।
অরুণ:-আমারও তো সংসার আছে।
বরুণ:-আমি কি বলছি তুমি একাই দেবে?
অরুণ:-তাহলে তুই কতটা দিবি?
বরুণ:-দিব কিছু একটা। তবে এই মুহূর্তে নিয়মিত দেওয়া সম্ভব হবে না।
অরুণ:-কেন?
বরুণ:-বাড়িভাড়া, বাচ্চার স্কুল, সংসারের খরচ—সব মিলিয়ে আমাদের খরচ চালানোই টান।
অরুণ:-আমার কি সংসারের খরচ নেই?
বরুণ:- না, আমি সেটা বলছি না।
মিতাLশান্তভাবে।) মার খরচ নিয়ে তোমরা ঝগড়া কোরো না।
অরুণ:-তুই চুপ কর মিতা। তুই তো বুঝতেই পারছিস, সংসার চালানো কত কঠিন।
মিতা:-তা অবশ্যে আমি বুঝি দাদা।
বরুণ:-তুই তো মায়ের সঙ্গে থাকিস। তুই একটু দেখলে হয় না?
মিতা:-আমি তো দেখিই।
বরুণ:-তাহলে আর সমস্যা কী?
মিতা:-সমস্যা নেই। কিন্তু তোমরা দু’জনেই যদি মনে করো মা’র দায়িত্ব শুধু আমার, তাহলে সমস্যা আছে।
অরুণ:-তুই কী বলতে চাইছিস?
মিতা:-বাবা মারা যাওয়ার পর মা আমাদের তিনজনকে মানুষ করেছেন। তখন তো মা বলেননি—আমি শুধু মিতাকে মানুষ করব, তোমরা নিজেদের দেখো।
বরুণ:-তাহলে কি তুই বলতে চাচ্ছিস, আমরা মায়ের প্রতি অকৃতজ্ঞ?
মিতা:-আমি কাউকে অকৃতজ্ঞ বলছি না। শুধু বলছি—মায়ের যত্ন নেওয়া যেন হিসাব করে নেওয়া না হয়।
অরুণ:-রেগে। তুই আমাদের কী বোঝাতে চাইছিস?
মিতা: না বোঝাতে চাইছি না, শুধু বলতে চাইছি, মায়ের জন্য যেন সংসারে অশান্তি না হয়।
(সাবিত্রী ধীরে ধীরে মঞ্চে প্রবেশ করেন)
সাবিত্রী:-আমার জন্য তোরা ঝগড়া করিস না। আমার জন্য তোদের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট হোক, এটা আমি চাই না।
অরুণ:-মা, তুমি ভেতরে যাও।
সাবিত্রী:- না। আজ আমাকে বলতে দে।
(কিছুক্ষণ নীরবতা।)
সাবিত্রী:-তোরা জানিস, তোদের বাবা যখন মারা গেল, তখন তোদের বড় ভাইয়ের বয়স কত ছিল?
অরুণ:-সাত বছর।
সাবিত্রী:- বরুণের পাঁচ। আর মিতার বয়েস ছিলো মাত্র দুই বছর।
মিতা:-মা।
সাবিত্রী:-তোদের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করেছি। কখনও বাসন মেজেছি, কখনও কাপড় কেচেছি, কখনও আবার রান্না করেছি। এসব কাজ করতে গিয়ে আমি কত অপমান সহ্য করেছি জানিস?
বরুণ:-মা।
সাবিত্রী:-কিন্তু রাতে তোদের তিনজনকে ঘুমাতে দেখে মনে হতো—আমি সুখেই আছি।
(অরুণ মাথা নিচু করে।)
সাবিত্রী:-অরুণ, তোকে স্কুলে পড়িয়েছি। বরুণ, তোকে কলেজে পাঠিয়েছি। মিতা, তোর পড়াশোনার জন্য নিজের গয়না বিক্রি করেছি।
মিতা- মা-(মিতা কাঁদতে থাকে।)
সাবিত্রী:-আজ আমি বুড়ো হয়েছি। আমার শরীর কাজ করে না। তাই কি আমি তোদের কাছে বোঝা হয়ে গেলাম?
অরুণ:-মা, এমন কথা বলো না।
সাবিত্রী:-আমি তো টাকা চাইনি। আমি শুধু একটু আপনজন চেয়েছি।
(এক মুহূর্ত সবাই নীরবতা। হরিপদ কাকা প্রবেশ করেন।)
হরিপদ: আমি বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে সব শুনলাম। একটা কথা বলতে চাই। যদি তোমরা শুন।
সাবিত্রী:-বলুন দাদা।কি বলতে চান।
হরিপদ:-তোমার তিন সন্তান। দুজনের চাকরি আছে, একজনের নেই। অথচ যে চাকরি করে না, সেই মেয়েটাই আজ তোমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।
অরুণ:-কাকা, আমরা মাকে ভালোবাসি।
হরিপদ:-ভালোবাসা শুধু মুখে বললে হয় না, বাবা। ভালোবাসার একটা মূল্য আছে—যাকে বলে দায়িত্ব।
বরুণ:-আমরা কি মা’র দায়িত্ব নেব না?
হরিপদ:-নেবে। কিন্তু তার আগে নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞাসা করো—মা যখন তোমাদের জন্য রাত জেগেছেন, তখন কি কখনও তিনি হিসাব করেছিলেন?
(দুই ভাই নীরব।)
হরিপদ:-আর একটা কথা। তোমাদের বোন মিতা কতবার বিয়ের সম্বন্ধ ফিরিয়ে দিয়েছে, জানো?
অরুণ:- কতবার?
হরিপদ:- তিনবার। ভালো পরিবার ছিল। শিক্ষিত ছেলে ছিল। কিন্তু মিতা বলেছে—আমার মা একা। আমি বিয়ে করলে মাকে কে দেখবে?
বরুণ:- মিতা, এ কথা কি সত্যি?
মিতা:- (মাথা নিচু করে।) হ্যাঁ দাদা। মা’কে একা রেখে যেতে আমার মন চায়নি।
অরুণ:- তুই আমাদের কখনও বলিসনি কেন?
মিতা:-বলার কী আছে দাদা? মা তো আমাদের সবার।
দৃশ্য ৫
(দুই ভাই আলাদা দাঁড়িয়ে কথা বলছে।)
বরুণ:-দাদা, আমরা কি সত্যিই ভুল করছি?
অরুণ:-মনে হচ্ছে করছি।
বরুণ:-মা আমাদের জন্য কত কিছু করেছেন।
অরুণ:-আর আমরা মায়ের জন্য মাসে কত টাকা দেব—সেটা নিয়ে হিসাব করছি।
বরুণ:-কথাটা ভেবে আমার খুবই লজ্জা করছে।
অরুণ:-আমারও।
বরুণ:
তাহলে একটা কাজ করি। মা’র খরচ আমরা দু’ভাই ভাগ করে নিই।
অরুণ:-শুধু খরচ ভাগ করলে হবে না। মাকে সময়ও দিতে হবে।
বরুণ:-ঠিক বলেছ।
অরুণ:-আর মিতার বিয়ের ব্যাপারেও আমাদের ভাবতে হবে।
বরুণ:-হ্যাঁ। এতদিন ও আমাদের জন্য নিজের জীবন আটকে রেখেছে।
দৃশ্য ৬
(ঘরে সাবিত্রী ও মিতা দাঁড়িয়ে কথা বলে।)
সাবিত্রী:-মিতা, তুই এবার বিয়ে কর মা।
মিতা:-আবার সেই কথা?
সাবিত্রী:-হ্যাঁ। আমি আর তোর জীবনের পথে বাধা হতে চাই না।
মিতা:-তুমি বাধা নও মা। তুমি আমার আশীর্বাদ।
সাবিত্রী:-কিন্তু আমি চাই না, আমার জন্য তুই সারাজীবন একা থাকিস।
মিতা:-আমার বিয়ে হবে, মা। কিন্তু এমন একজন মানুষকে বিয়ে করব, যে তোমাকে আমার মতোই মা বলে মানবে।
সাবিত্রী:(চোখ মুছে।) এমন মানুষ তুই কোথায় পাবি?
মিতা:- মানুষ খুঁজলে মানুষ পাওয়া যায় মা।
(অরুণ ও বরুণ মঞ্চে প্রবেশ করে।)
অরুণ:-মিতা।
মিতা:-হ্যাঁ দাদা?
অরুণ:-আমাদের ক্ষমা কর বোন।
মিতা:-কেন? তোমরা কি অন্যায় করেছ?
বরুণ:-আমরা মায়ের দায়িত্ব থেকে পালাতে চেয়েছিলাম।
অরুণ:-আজ থেকে মা শুধু তোর নয়। মা আমাদের তিনজনের।
বরুণ:-মা’র ওষুধ, চিকিৎসা, খাবার—সব আমরা দেখব।
অরুণ:-আর তোর বিয়ের ব্যাপারেও আমরা পাশে থাকব।
মিতা-(চোখে জল।) তোমরা কী সত্যিই বদলেছ, দাদা?
বরুণ:-হ্যাঁ, মায়ের চোখের জল মানুষকে বদলে দিতে পারে।
অরুণ:-আমরা ভুলে গিয়েছিলাম—মায়ের ঋণ টাকা দিয়ে শোধ করা যায় না।
দৃশ্য ৭
শেষ দৃশ্য।
(সাবিত্রী তিন সন্তান সাবিত্রীকে ঘিরে দাঁড়ায়।)
অরুণ:-মা, আজ থেকে তোমার কোনো চিন্তা নেই।
বরুণ:-আজ থেকে তুমি আর নিজেকে একা ভাববে না।
মিতা:-আর আমি তো আছিই।
সাবিত্রী:-(তিনজনের মাথায় হাত রেখে।) এর বেশি আজ আমার আর কিছু চাই না।
অরুণ:-মা, একটা কথা বলো।
সাবিত্রী:-কী?
অরুণ:-তুমি কি আমাদের ক্ষমা করেছ?
সাবিত্রী:-মা কি কখনও সন্তানকে ক্ষমা না করে থাকতে পারে?
বরুণ:-মা।
সাবিত্রী:-তোরা আজ আমাকে টাকা দিচ্ছিস না। তোরা আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছিস- আমার সন্তানদের ফিরিয়ে দিচ্ছিস।
মিতা:-মা!
সাবিত্রী:-মনে রাখিস—বাড়ি বড় হলে পরিবার বড় হয় না। হৃদয় বড় হলেই পরিবার বড় হয়।
(হরিপদ কাকা মঞ্চে প্রবেশ করেন)
হরিপদ- এই কথাটাই তো আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় শিক্ষা!
(সবাই হরিপদ কাকার দিকে তাকায়।)
হরিপদ:- বাবা-মা যখন বৃদ্ধ হন, তখন তাঁদের দরকার টাকা নয়—দরকার আপনজনের হাত। যে হাত ধরে তাঁরা সন্তানকে হাঁটতে শিখিয়েছিলেন, শেষ বয়সে সেই হাতটুকু তাঁরা ধরতে চায়।
( সাবিত্রী তিন সন্তানকে বুকে টেনে নেন।)
(ধীরে ধীরে আলো ম্লান হয়।)
পর্দা নামার আগে মিতা দর্শকদের উদ্দেশে বলে:– যে মা-বাবা আমাদের হাত ধরে জীবনের পথ দেখিয়েছেন, তাঁদের বার্ধক্যে আমরা যেন তাঁদের হাত ছেড়ে না দিই।
(আলো নিভে যায়।)
সমাপ্ত
