
টাটা মেমোরিয়াল হসপিটাল, মুম্বাই
ক্যান্সার দূরারোগ্য ব্যাধি নয়।
প্রস্তাবনা- বর্তমান বিশ্বে ক্যান্সার ব্যাধি মারাত্মক প্রত্যাহ্বান হিসাবে দেখা দিয়েছে। আজকাল হোঁচট খেয়ে, জিভায় কামোর লেগে, পান খাওয়ার সময় জিভা বা গালে চূণ লেগেও ক্যান্সার রোগ সৃষ্টি হয়।ব্রেস্ট ক্যান্সারের প্রকোপ আজকাল খুবই বৃদ্ধি পেয়েছ। ক্যান্সার হল এমন একটি ব্যাধি যা কোষগুলির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটায় এবং তা ক্রমান্বয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ১০০ রকমের ক্যান্সার রয়েছে। ক্যান্সার কোষ কাছাকাছি টিস্যুগুলোতে আক্রমণ করে এবং রক্ত ও লিম্ফ সিস্টেমের মাধ্যমে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ছড়িয়ে পড়ার এই প্রক্রিয়াটিকে মেটাস্ট্যাসিস(স্থানান্তকরণ) বলা হয়।
ক্যান্সার শরীরের যে কোনো অংশকে প্রভাবিত করতে পারে এবং এর বিভিন্ন প্রকার রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
কার্সিনোমা: ত্বক বা টিস্যুতে শুরু হয় যা অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলিকে আক্রান্ত করে।
সারকোমা: হাড়, তরুণাস্থি, চর্বি, পেশী, রক্তনালী বা অন্যান্য সংযোগকারী টিস্যুতে শুরু হয়।
লিউকেমিয়া: রক্তগঠনকারী টিস্যুতে শুরু হয়।
লিম্ফোমা: লিম্ফোসাইটে শুরু হয়।
ক্যান্সার বিভিন্ন প্রকারের রয়েছে-যেমন-
স্তন ক্যান্সার।
ফুসফুসের ক্যান্সার।
প্রোস্টেট ক্যান্সার।
কোলোরেক্টাল ক্যান্সার।
রক্তের ক্যান্সার।
প্রস্টেট,থায়রয়েড,টেস্টিকুলার, মেলানুমা ও ব্রেস্ট কেন্সার এশ শতাংশ আরোগ্য হতে পারে সময় মতো চিকিৎসা করালে।
ক্যান্সার বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে:
ধূমপান
মদ্যপান
পরিবেশে ক্ষতিকারক রাসায়নিকের এক্সপোজার, যেমন অ্যাসবেস্টস এবং বেনজিন নামক কিছু ভাইরাসের প্রভাবেও কেন্সার হতে পারে।
অস্ত্রোপচার, কেমো থেরাপি, রেডিওথেরাপি দিয়ে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান্সার মৃত্যুর দ্বিতীয় সবচেয়ে বেশি সাধারণ কারণ কিন্তু ২০ বছর আগের তুলনায় এখন অনেক কম লোক ক্যান্সারে মারা যায়। প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং উদ্ভাবনী চিকিৎসা ক্যান্সার নিরাময় এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘজীবি হতে সাহায্য করে।
ক্যান্সার ছোঁয়াচে রোগ নয় এবং সহজে একজন ব্যক্তি থেকে অন্য একজন ব্যক্তিতে সংক্রমিত হয় না। একজন দাতার কাছ থেকে অঙ্গ বা টিস্যু প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ক্যান্সার একজন থেকে অন্য একজন ব্যক্তিতে ছড়াতে পারে। তবে, প্রতিস্থাপন(এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তকরণ) থেকে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত কম।
কিছু ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া ক্যান্সারের কারণ হতে পারে, কিন্তু তারা যে ক্যান্সার সৃষ্টি করে তা সংক্রামক নয়।
আমি কীভাবে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলাম-
আমার গলায় মাছের কাঁটা বিধেঁছিলো প্রায় দুই বছর আগে। প্ৰথমে তেমন গুরুত্ব না দিলেও গলায় যখন সামান্য ঘাঁ মতো হলো, তখন গুরুত্ব দিতে বাধ্য হলাম। লোকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে দুই পালি হোমিও ওষুধ খেলাম। হোমিও ওষুধ খাওয়ার পর ঘাঁ কিছু নিরাময় হলো, যদিও সম্পূৰ্ণ নিরাময় হলো না। তাই এলোপ্যাথিক ডাক্তারের শরাপন্ন হলাম। ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওষুধ দিলেন। সেই ওষুধ খেয়ে ঘাঁ কিছু কমল। এদিকে এক বড় বিড়ম্বনা দেখা দিলো। আমার ওষুধ খাওয়া শেষ না হতেই বড় মেয়ের জামাই আব্দুর রেজ্জাকের কেন্সার ধরা পড়ল। তাকে নিয়ে মেজু ছেলে সোলেমান কবীর ডিসেম্বর মাসের ৭ তারিখে চেন্নাই গেলো চিকিৎসার জন্য। সোলেমান কবীর অষ্ট্রেলিয়াতে ক্রুইস কোম্পানীতে কর্মরত। তার ডিসেম্বরের ১৬ তারিখের টিকেট হয়েছে অষ্ট্রেলিয়া যাওয়ার জন্য।চাকরির কথা। তাই সোলেমান কবীরকে ১৬ তারিখে অষ্ট্ৰেলিয়া যেতেই হবে। এদিকে রোগীকে একা ছেড়ে যাওয়া সম্ভব নয়। অর্থাৎ জামাইর দেখা-শুনার জন্য একজন লোকের প্রয়োজন। চেন্নাই যাওয়ার জন্য অনেকের সাথে যোগাযোগ করা হলো, কিন্তু কেউ যেতে রাজি হলোনা। তাই বাধ্য হয়ে আমাকে নিজেই ১৫ তারিখ রাতে চেন্নাই যেতে হলো। আমার চিকিৎসার জন্য যা অল্প কিছু ওষুধ খাওয়া বাকি ছিলো তাড়াতাড়ি করে চেন্নাই যাওয়ার জন্য অসাবধানতবশতঃ সেই ওষুধ সাথে নেওয়া হলোনা। এদিকে চেন্নাই থেকে ঘূরে আসার পরেও দ্বিতীয়বার আর ডাক্তারের কাছে যাওয়া হলোনা। ফলে আমার গলার চিকি ৎসা এভাবে অসমাপ্ত হয়ে রইল।
আব্দুর রেজ্জাক আহমেদকে চেন্নাইর এপেলো হসপিটালে কেমো থেরাপি দেওয়া হলো।কেমো থেরাপি দেওয়ার পর তাঁকে বাড়ি নিয়ে এলাম। আব্দুর রেজাকের জন্য ছয়টা কেমো ও পনেরটা রেডিয়েশ্বন নির্ধারিত ছিলো। আমাদের বাড়ি বরপেটা সহরের নিকটে। বরপেটার টাটা কেন্সার হসপিটাল থেকে হেঁটে মাত্র দশ মিনিটের রাস্তা। তাই বরপেটার টাটা মেমোরিয়াল হসপিটালে আব্দুর রেজ্জাকের চিকিৎসা চলল। বাকী কেমো পাঁচটা নেওয়ার পর নির্ধারিত রেডিয়েশ্বনও নেওয়া হলো, কিন্তু দুঃখের বিষয় রোগ নিরাময় হলোনা। আব্দুর রেজ্জাক ২০২৩ সালের ২৮ মেতে এন্তেকাল করলেন।
কিছুদিন পর আবার আমার গলার ইফেকশ্বন দেখা দিলো। ফলে আবার ডাক্তারের শরণাপন্ন হলাম।ডাক্তার ওষুধ লিখে দিলেন এবং সাথে এক সপ্তাহ পর এক্সরে করতে বললেন।এক সপ্তাহ ওষুধ খাওয়ার পর এক্সরে করে রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলাম।এক্সরেতে কোন কাঁটা ধরা পড়ল না। তাই ডাক্তার আবার এক সপ্তাহের ওষুধ লিখে দিলেন। এক সপ্তাহ ওষুধ খাওয়ার পর রোগ নিরাময় না হওয়াতে আবার ডাক্তারের কাছে গেলাম। ডাক্তার তখন এনডুচকপি(Endoscopy) করতে বললেন। এনডুচকপি সম্পর্কে আমি অজ্ঞ। সেদিন আমার সাথে ছিলো আমার ছোট ছেলে রাহুল আমিন। রাহুল আমিন বি-ফার্ম উত্তীর্ণ। তাই ওষুধ ও চিকিৎসা সম্পর্কে তার মোটা-মুটি ভালো জ্ঞান আছে। আমি তাকে এনডুচকপি কি এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করাতে সে বললো- এনডুচকপিতে একটি পাইপের সাহায্যে মুখের ও পেটের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যজ্ঞগুলি বিশদভাবে পরীক্ষা করে।
আমি বললাম- যে কাঁটা আঙুল দিয়ে ছোঁয়া যায় তারজন্য পেটের ভেতরে পরীক্ষা করার কি দর্কার?
রাহুল বললো- ডা্ক্তার বিষয়টি ভালোভাবে জানতে চাইছে। অন্য কিছু না।
আমি মনে মনে ভাবলাম- পরীক্ষা-টরীক্ষা ও কিছু না। ডাক্তার আমাকে মূলা ক্ষেত পাইছে। যে কাঁটা আঙুল দিয়ে স্পর্শ করা যায়, তারজন্য এত পরীক্ষা-নিরীক্ষার কি দর্কার! মনে মনে এভাবে ভেবে প্ৰকাশ্যে বললাম-আমি এনডুচকপি করাব না। অন্য কোন ভালো ডাক্তার নাই?
রাহুল এমআর(ম্যাডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ)।অনেক ডাক্তারের সাথে তাঁর চিনাজানা। তাই সে বললো- আছে। থাকবেনা কেন। এর চেয়েও ভালো ডাক্তার আছে।
আমি বললাম- তাহলে আগামী কালই তাঁর কাছে নিয়ে চল। কাঁটা হাত দিয়ে ছোঁয়া যায় তারজন্য এডুচকপি করার কি দর্কার? কালই অন্য একজন ডাক্তার দেখাব।
সিদ্ধান্ত মতেই পরের দিন অন্য একজন ডাক্তারের শরণাপন্ন হলাম। ডাক্তার মুখের ভেতর হাত দিয়ে নেড়েচেড়ে দেখে কাঁটা আছে বলে সমিধান দিলেন এবং ওষুধ লিখে দিয়ে বললেন- ওষুধ খেলে কাঁটা ধীরে ধীরে মাংসের সাথে মিশে যাবে। ওষুধ লিখে দিলাম, নিয়মিতভাবে ওষুধগুলো খাবেন।
ওষুধ নিয়ে বাড়ি এলাম।কিছুদিন ওষুধ খাওয়ার পর রোগ যেন ভালো হয়ে গেলো এরকম ধারণা হলো আমার।
কিছুদিন পর মানে মাসখানেক পর আবার ইনফেকশ্বন দেখা দিলো।এইবার বিভিন্ন জনের পরামর্শ অনুসারে হোমিওপেথি ডাক্তারের শরণাপন্ন হলাম। তিন পালি হোমিওপেথি ওষুধ খেলাম। কিন্তু ইফেকশ্বন ভালো হওয়ার লক্ষণ না দেখে আবার আগের ডাক্তারের শরণাপন্ন হলাম। এইবার ডাক্তার ক্ষতস্থান পরীক্ষা করে ওষুধ লিখে দেওয়ার সাথে সাথে এক সপ্তাহ পর এনডুচকপি(Endoscopy) করার জন্য লিখে দিলেন। এক সপ্তাহ ওষুধ খাওয়ার পর এনডুচকপি(Endoscopy) করালাম।সেখান থেকে বায়োচপি করার জন্য ক্ষতস্থান থেকে মাংস কেটে নিয়ে গুয়াহাটী পাঠিয়ে দিলেন। বায়োচপির রিপোর্ট এলো ২৩ মার্চ। রিপোর্টে কারচুনুমা(কেন্সারেরই একটা প্রজাতি)হয়েছে বলে ধরা পড়লো।
ক্যান্সার!নাম শুনলেই অস্থির। তাই ক্যান্সারের কথা শুনে ছেলেমেয়েরা, আত্মীয়স্বজন সবাই হতাশ হয়ে পড়লো। আমি হতাশ না হলেও একটু দুঃশ্চিন্তায় পড়লাম। চিকিৎসা সম্পর্কে আলোচনা করার জন্য সন্ধ্যেয় আমার সেজ ছেলে সাহজাহান, মেয়ে আবিদা খাতুন, শ্যালক হাসমত আলী ও হাসর আলী, সাহজাহানের শশুড় রহমত আলী এবং অন্যান্য কয়েকজন আমাদের বাড়িতে সমবেত হলো।
বড় ছেলে সোহরাব আলী থাকে ধুবরী জেলার চাপর অঞ্চলে।জায়গার নাম রঙামাটি। সেখানে একটি স্কুলে সে শিক্ষকতা করে। তার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলো। সে বললো- যেটা ভালে হয় সেটা করলেই হলো। শুনেছি গুয়াহাটীতেও চিকিৎসা মন্দ হয়না।
তখন সাহজাহান বললো- চিকিৎসা যদি করাতেই হয়, ভালো জায়গায় গিয়েই চিকিৎসা করাব।
তখন সোহরাব আলী জিজ্ঞেস করলো- তাহলে কোথায় যেতে চাস?
সাহজাহান বললো- মুম্বাই নিয়ে যাব। শুনেছি, ক্যান্সারের চিকিৎসা মুম্বাই সবচেয়ে ভালো হয়।
সোহরাব আলী বললো- সাথে কে যাবে? একা যাওয়া তো সম্ভব নয়। আমার যাওয়া সম্ভব হবে না। তাড়াতাড়ি ছুটি পাব না। ছুটি পেলে আমি পরে যেতে পারব।
তখন সাহজাহান বললো- আমি যাব সাথে।
সাহজাহান একটি ব্যক্তিগত খণ্ডের কলেজে কর্মরত। তাই সোহরাব বললো- তুই কি ছুটি পাবি?
সাহাজাহান বললো- পাব। আমি ইতিমধ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছি। তাঁরা একমাসের ছুটি দিবে বলেছে।
মুম্বাইতে এক মাস-অবশেষে মুম্বাই যাওয়ার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হলো। ছোটখাট রোগ না। কেন্সার। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসা করাতে হবে। সাহজাহান সাথে সাথে বিমানের টিকেট কেটে ফেললো।পরের দিন ২৫ মাৰ্চ দুপুর বারটায় গুযাহাটীর বরঝার অভিমুখে রাওযানা হলাম।আমরা নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বরঝার পৌঁছোলাম।
আমাদের ফ্লাইটের নির্ধারিত সময় ছিলো সন্ধ্যে ছয়টায়। সাড়ে ছটায় ফ্লাইট গুয়াহাটী থেকে বাঙ্গালোর অভিমুখে রওয়ানা হলো। কারণ আমাদের গন্তব্যস্থান মুম্বাই ছিলো যদিও ফ্লাইট বাঙ্গালোর বায়া হয়ে ছিলো। গুয়াহাটী থেকে বাঙ্গালোর সাড়ে তিন ঘণ্টার রাস্তা। রাত দশটায় বাঙ্গালোর পৌঁছোলাম। তারপর ফ্লাইট চেঞ্জ করে মুম্বাই অভিমুখী ফ্লাইটে চড়লাম। বাঙ্গালোর থেকে সাড়ে এঘারটায় ফ্লাইট মুম্বাই অভিমুখে রওয়ানা হলো। রাত দেড়টায় মুম্বাই এয়ার পোর্ট পৌঁছোলাম। এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে টেক্সি নিয়ে টাটা মেমোরিয়াল হসপিটাল এলাম। তখন রাত অনুমান আড়াইটা বেজে গেছে।অনুষ্ঠানটিতে তেমন লোকজন ছিল না, কয়েকজন সিকিউরিটি গার্ড এক জায়গায় বসেছিলো। সাহজাহান তাঁদের জিজ্ঞেস করে জানতে পারলো, সকাল সাতটায় অনুষ্ঠানটি খুলবে।একই পরিসরে দুই ধরণের অনুষ্ঠান। একটি সরকারী ও একটি প্রাইভেট।আমরা সরকারী অনুষ্ঠানটির সিকিউরিটির সাথে কথা বলছিলাম। তাই সাহজাহান জিজ্ঞেস করলো-প্রাইভেট অনুষ্ঠান কোন জায়গায়?
সিকিউরিটি গার্ড বললেন- অনুষ্ঠান দু’টি একই পরিসরে। শুধু প্রবেশ পথ ভিন্ন।সরকারী ও প্রাইভেট রেজিস্ট্রশ্বনের কাজ এক জায়গায়ই হয়। হোমী ভাবা ভবনে।এভাবে বলেই গার্ড অনুষ্ঠানটির রাস্তা দেখিয়ে দিলেন।

হোমী ভাবা ভবন, মুম্বাই
.সিকিউরিটি গার্ডের নির্দেশ মতো সাহজাহান এবং আমি অনুষ্ঠানটিতে এলাম। গেট বন্ধ। একজন সিকিউরিটি গার্ড গেট থেকে একটু ভেতরে বসে পহারা দিচ্ছিলেন। সাহজাহান গার্ডটিকে ডেকে জিজ্ঞেস করলো- অনুষ্ঠান কখন খুলবে? আমরা ভেতরে বসতে পারব কি?
সিকিউরিটি গার্ড গেট পর্যন্ত এগিয়ে এসে বললেন- সকাল সাতটায় গেট খুলবে। তখন ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে। তার আগে ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না।সরকারী অনুষ্ঠানটির বারাণ্ডায় বসার জায়গা আছে। সেখানে বসতে পারবে। নাহলে ফুটপাতেই কোথাও বসতে হবে। অসুবিধা নেই। অনেকেই ফুটপাতে শোয়েবসে রাত কাটায়। দুইদিন অনুষ্ঠান বন্ধ ছিলো, তাই আজ লোকজন কম। নাহলে এখন ফুটপাতে অনেক লোকজন থাকত।
সিকিউরিটি গার্ড মিথ্যা বলেনি। পরে আমরা এর প্রমাণ পেয়েছি। কয়েকদিন সকাল বেলা আমাদের হসপিটালে যেতে হয়েছে, তখন অনেককেই ফুটপাতে শোয়ে থাকতে দেখেছি।
আমরা আবার সরকারী অনুষ্ঠানটিতে এলাম। একজন সিকিউরিটি গার্ড একটি বারাণ্ডার দিকে ইঙ্গিত করে বললেন- যান, ওই বারাণ্ডায় বসে পড়ুনগে।
কাছেই বারাণ্ডা। বারাণ্ডায় এসে দেখলাম, অনেক লোক আগে থেকেই শোয়ে বসে রয়েছে বারাণ্ডায়।অনেক লোক।পনের বিশজন তো নিশ্চয় হবে।অনেকে গভীর ঘোমে আচ্ছন্ন্। একটি লোক, কে তা জানিনা। মনে হলো, রোগী বা রোগীর কোন আত্মীয়-স্বজন না। অনুষ্ঠানেরই চকিদার টকিদার হবে হয়তো। লোকটি একটি চেয়ার দেখিয়ে আমাকে উদ্দশ্য করে বললেন- চেয়ে আছেন কেন! যান চেযারটিতে বসে পড়ুনগে”।
লোকটির কথা মতো আমি চেয়ারটিতে বসে পড়লাম। বাড়ি থেকে সেই সকাল দশটায় খেয়ে গেছি।রাস্তায় বলতে গেলে কিছুই খাওয়া হয়নি। বাড়ি থেকে কয়েকটা মুড়ি নিয়ে গিয়েছিলাম। বাঙ্গালোর এয়ারপোর্টে বসে সেই কয়েক মোট মুড়ির বাহিরে কিছু খাওয়া হয়নি। তাই সাহজাহান বললো- খুব ক্ষিদে পেয়েছে। দেখি, কিছু খাবার যোগার করতে পারি কিনা।
আমি বললাম- এত রাতে কোথায় খাবার পাবে?
সাহজাহান বললো- একজন লোক বললো, একটু আগেই ফুটপাতে একটি দোকান খোলা আছে। গিয়ে দেখি কিছু পাই কিনা! এভাবে বলে সাহজাহান খাবার যোগারের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেলো।
কিছুক্ষণ পর সাজাহান পাউরুটি নিয়ে এলো। সে পাউরুটি আমার দিকে বাড়িযে বললো- তুমি খেয়ে নাও।
আমি বললাম- তুমি খাবে না?
সাহজাহান বললো- দু’টো কিনেছিলাম। আমি রাস্তায় আসতে আসতে একটি খেয়ে নিয়েছি। আমি গিয়ে এখন গেটের সামনে বসব।মানুষ আসতে শুরু করেছে। এখন না বসলে অনেক পেছনে পড়ে যাব। এভাবে বলে সাহজাহান চলে গেলো।
তখন রাত অনুমান চারটে হবে।ঘড়ী নেই। মোবাইলে টাইম দেখতে হয়। মোবাইল দেখা হয়নি, তাই সঠিক টাইম বলতে পারলাম না। আমি বসে বসে ঝিমুতে লাগলাম। বেলা উঠার কিছু আগে একজন লোক এসে বললেন- যারা যারা লাইনে দাঁড়াবেন, তারা গিয়ে লাইনে দাঁড়ান। না হলে পেছনে পড়ে যাবেন।
লোকটির কথা শুনে কয়েকজন লোক বারাণ্ডা থেকে বেড়িয়ে গেলো। সাহজাহান কি করতেছে তা দেখার জন্য আমিও চেয়ার ছেড়ে ব্যাগ নিযে বেড়িয়ে এলাম। হোমী ভাবা গ্যেটের সামনে এসে দেখলাম, লাইন ইতিমধ্যে অনেক বড় হয়ে গেছে। সাহজাহান লাইনের প্রথমেই, মনে হয় একজনের পরে রুমাল বেছিয়ে বসে রয়েছে। আমাকে দেখে সে বললো- এখনই এসেছ কেন, সাতটা বাজতে এখনও অনেক দেরি।
আমি বললাম- দেখতে এলাম তুমি কি করতেছ। একা বসে বসে ভালো লাগছিলো না। তাই এসেছি।
যাও, আবার সেখানে গিয়ে বসে থাকগে’।
আমি আমতা আমতা করে বললাম- সেখানে গিয়ে মনে হয় বসার জায়গা পাব না। তার থেকে এখানেই কোথাও বসে থাকি।
সাহজাহান বললো- দেখগে’, বাস যাত্রীদের বসার জন্য রাস্তার ধারে বেঞ্চ পাতা রয়েছে। সেখানেই কোথাও বসে থাকগে’।
কাছেই বাসস্ট্যাণ্ড।বাসস্ট্যাণ্ডে দুই জায়গায় দুটি বেঞ্চ পাতা রয়েছে।একটি বেঞ্চে একটি খালী আসন পেয়ে আমি সেখানে বসে পড়লাম।
সাতটা বাজল। গেট খুললো।মনে হয়, আমরা তিন নম্বরে ভেতরে প্রবেশ করলাম। ভেতরে প্রবেশ করে ডিজিটেল সিড়ি দিয়ে দুই তালায় উঠে গেলাম। আমরা নতুন। তাই আমাদের রেজিস্টার করতে হলো। সেখানে দুই রকমের রেজিস্ট্রেশনের সুবিধা রয়েছে। প্রাইভেট এবং সরকারী। প্রাইভেট রেজিস্ট্রেশনের জন্য লাগে ১২০০০ এবং সরকারী রেজিস্ট্রশনের জন্য লাগে ৪০০০ হাজার টাকা। প্রাইভেটে লোক কম তাই কাজ একটু তাড়াতাড়ি হয়। সরকারীতে লোক বেশি, তাই কাজ একটু লেহেম গতিতে হয়।
আমাদের আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিলো, আমরা প্রাইভেটে চিকিৎসা করাব। তাই প্রাইভেটে রেজিস্ট্রেশন করালাম বার হাজার টাকা দিয়ে। ২৬ মাৰ্চ/২৪ তারিখে মোটামুটি ৮-৩০ টা বাজায় আমাদের রেজিস্ট্রেশনের কাজ শেষ হলো।কাজ খুব দ্রুত গতিতে হয়। কর্মচারীরা যার যার কর্তব্য খুবই নিষ্ঠা সহকারে পালন করে। অনেক রোগী। না হলে এতো তাড়াতাড়ি রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব হত না।
আমাদের হাতে একটি ফাইল দেওয়া হলো। ফাইলের উপরে ডাক্তারের নাম লিখা ছিলো। সম্পূর্ণ নাম নয়। সংক্ষেপ নাম। ডক্টর চিডি। তাই ডাক্তারের সম্পূর্ণ নাম জানিনা।ডাক্তার দেখে চিনারও উপায় ছিল না। কারণ ডাক্তার সর্বদা মাক্স পরে থাকে। হিন্দী ভাষী।
আমাদের ডাক্তার দেখবে প্রতি মঙ্গলবার এবং শুক্রবার। ডাক্তার বসবে সকাল নটায়। আমরা জলপান করে দুই নম্বর ফ্লোরে আমাদের ফাইল জমা দিয়ে বেয়ারার আহ্বানের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। বেযারারা এসে রোগীর নাম ধরে ডাকে। অনুমান সাড়ে নটা বাজায় আমাদর ডাক পড়লো। ডাক্তার খুব গুরুত্ব সহকারে আমাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে লাগলো। এক দফা দেখার পর একটু পর একটু জিরিয়ে নিয়ে আবার আরেক দফা দেখলো। আমার এরকম ধারণা হলো যেন, ডাক্তারের রোগ চিনাক্ত করতে অসুবিধা হইতেছে।যা হোক, অবশেষে ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা, এমআরআই এবং সিটি স্ক্যান প্রভৃতি করার জন্য লিখে দিলেন।ক্যান্সার রোগের চিকিৎসায় রক্ত পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় প্রতিটি পরীক্ষার আগেই রক্ত পরীক্ষা করতে হয়। পরীক্ষার জন্য যে কতবার রক্ত দিয়েছি এখন তা মনে নেই। কমপক্ষে বিশবার তো হবেই। মূল চিকিৎসার আগে কিডনি পর্যন্ত পরীক্ষা করাতে হয়।পরীক্ষার জন্য অনেক সময় ব্যয় করতে হয়। ধরুন প্রায় একমাস।আমার প্রায় এক মাসই লেগেছিলো
রক্ত পরীক্ষার কাজ খুব সহজেই হয়ে গেলো। চার ঘণ্টা পর রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট পেলাম। রিপোর্ট সাহজাহানের মোবাইলে এলো। কারণ যাবতীয় যোগাযোগের জন্য সাহজাহানের মোবাইল নম্বরই দেওয়া ছিলো। এমআরআইর তারিখ পড়লো এপ্রিলের ৩ তারিখ এবং সিটি স্ক্যানের তারিখ পড়লো ৬ এপ্রিল। সেদিন ছিলো ২৬ তারিখ। অৰ্থাৎ ২৭ তারিখ থেকে এপ্রিলে ৩ তারিখ পৰ্যন্ত কোন কাজ নেই। এমনি বসে থাকতে হবে।
এদিকে ক্ষিদেও পেয়েছিলো। তাই আমারা ফুটপাতের একটি হোটেলে ভাত খেয়ে ভাড়াঘরের সন্ধানে বের হলাম। সাহজাহান আগেই ফোনের মাধ্যমে ভাড়াঘরের জন্য একজন লোকের সাথে যোগাযোগ করে রেখেছিলো।লোকটি ঠিকানা দিয়েছিলো মমতা বিল্ডিঙ।বিল্ডিঙটি টাটা মোমোরিয়াল হসপিটাল থেকে পনের মিনিটেরর রাস্তা। জায়গার নাম শিউড়ি। আমরা হেঁটে হেঁটে মমতা বিল্ডিঙে এলাম। ২৩ তালা বিশিষ্ট বিল্ডিঙ। আমাদের ১৭ তালায় নিয়ে গিয়ে একটি রুম দেখানো হলো।রান্না-বান্না এবং জলের পৰ্যাপ্ত সুবিধা রয়েছে রুমটিতে। রুম দেখে পছন্দ হলো। ভাড়া দৈনিক ১২০০ টাকা। যে লোকটির সাথে ভাড়া বন্দবস্ত হলো তাঁর নাম সফিকুল ইসলাম। পেশায় দর্জি। বাড়ি পশ্চিম বংগের মুর্শিদাবাদ জেলায়।লোকটি কথা একটু বেশি বলে। খুব ন্যায়নীতির কথা বলে। ধর্ম নিয়েও কথা বলে। নিজে যেন খুব ধর্মভীরু এরকমটাই বুঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু লোকটি আসলে ধান্দাবাজ। স্বার্থ ছাড়া কোন কাজ করেনা। কয়দিন থাকার পরেই লোকটির চরিত্র বুঝে গিয়েছিলাম। লোকটির একটি ছেলে আমাদের সাথে থাকত। নাম রাযহান শেখ। মুম্বাইতেই একটি স্কুলে ক্লাস সেভেনে পড়ে। ছেলেটি খুবই ভদ্র ও অমায়িক ছিলো।কথা কম বলে। বাপের ঠিক বিপরীত।
রুম বন্দবস্ত করে গোসল করে আমি শোয়ে পড়লাম।কারণ সারারাত ঘুমাইনি।তাই খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। সাহজাহান নিজেও গোসল সেরে বেড়িয়ে পড়লো খাবার যোগারের উদ্দেশ্যে।কারণ ফুটপাতের হোটেলে খাবার তেমন সুবিধার ছিল না। কিছুক্ষণ পর সাহজাহান চাল, ডাল, আলুর সাথে রান্নার জন্য প্ৰয়োজনীয় যাবতীয় সামগ্ৰী নিয়ে এসে রান্না চড়িয়ে দিলো। খিচুড়ি। সহজে হবে বলে আমিই খিচুড়ি রাঁধতে বললাম। খিচুড়ি হওয়ার পর হাতমুখ ধোয়ে খিচুড়ি খেয়ে নিলাম। খিচুড়ি ভালই লাগলো।কারণ খিদে পেয়েছিলো যথেষ্ট। খিচুড়ি খেয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। তখন বেলা অনুমান চারটে বেজেছিলো।সেখানে যতদিন ছিলাম, যেদিন হসপিটালে যেতাম না, সাহজাহান সকালবেলা প্রায়ই মেডওয়ারা নিয়ে আসত এবং মেডওযারা দিয়ে নাস্তা করতাম। ভাড়া রুমটিতে ২৬ মার্চ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ছিলাম।
পরের দুদিন রুমে শোয়েবসে কাটালাম। আমাদের জন্য নির্ধারিত ডাক্তার মংগলবার ও শুক্রবার বসে। তাই ২৯ তারিখ শুক্রবার রক্তের রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলাম।রক্তের রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বায়সপির স্লাইড আনতে বললেন। বায়সপির স্লাইড ছিলো গুযাহাটীতে। রাহুল তখন সানফার্মা কোম্পনীতে কর্মরত ছিলো। সেজন্য সে গুয়াহাটীতেই ছিলো। তাই রিপোর্টের জন্য রাহুলের সাথে যোগাযোগ করা হলো। বায়সপি করা অনুষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে রাহুলকে আমাদের রুমের ঠিকানায় বায়সপি রিপোর্ট পাঠিয়ে দিতে বললাম।

এম আর আই মেসিন
৩ এপ্ৰিল বুধবার। জুবিলি বিল্ডিঙে গিয়ে এমআরআই করালাম। এমআরআই করার সময় অনুষ্ঠান থেকে প্রদান করা কাপড় পরিধান করতে হয়। এমআরআই আসলে খুবই রিক্সি(বিপদজনক) কাজ। কোন রকমের মেটাল(তাবিজ) শরীরে থাকা যাবে না। ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং, বা এমআরআই হল একটি নন-ইনভেসিভ মেডিকেল ইমেজিং পরীক্ষা যা অঙ্গ, হাড়, পেশী এবং রক্তনালীসহ মানবদেহের প্রায় প্রতিটি অভ্যন্তরীণ কাঠামোর বিস্তারিত চিত্র তৈরি করে। এমআরআই স্ক্যানার একটি বড় চুম্বক এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের ছবি তৈরি করে। এমআরআই পরীক্ষার সময় এক্স-রেগুলির বিপরীতে কোনও আয়নাইজিং বিকিরণ তৈরি হয় না। এই চিত্রগুলি আপনার চিকিৎসার অবস্থা নির্ণয় এবং চিকিৎসার একটি কোর্স পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে।
এমআরআই মেশিন একটি বড়, নলাকার (টিউব-আকৃতির) মেশিন, যা রোগীর চারপাশে একটি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে এবং একটি স্ক্যানার থেকে রেডিও তরঙ্গের স্পন্দন পাঠায়। কিছু এমআরআই মেশিন দেখতে সরু ট্যানেলের মতো।

সিটি স্ক্যান মেসিন
আমার সিটি স্ক্যানের তারিখ ছিলো ছয় এপ্রিল। ৬ তারিখে সিটি স্ক্যান করালাম।সিটি স্ক্যান, বা কম্পিউটেড টমোগ্রাফি স্ক্যান হল একটি ডায়াগনস্টিক ইমেজিং পদ্ধতি যা শরীরের ভিতরের বিশদ ছবি তৈরি করতে এক্স-রে এবং একটি কম্পিউটার ব্যবহার করে। সিটি স্ক্যানগুলি এসব কাজের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে: রোগ বা আঘাত নির্ণয় করা, চিকিৎসার পরিকল্পনা করা এবং চিকিৎসা কতটা ভাল কাজ করছে তা পর্যবেক্ষণ করার জন্য সিটি স্ক্যান করা হয়।
সিটি স্ক্যানগুলি প্রচলিত (স্টান্ডার্ড) এক্স-রে থেকে আরও বিস্তারিতভাবে তথ্য প্রদান করে। সিটি স্ক্যান হাড়, পেশী, অঙ্গ, রক্তনালী এবং চর্বির বিস্তারিত চিত্র প্রদর্শন করতে পারে।
৯ তারিখে ডাক্তারের সাথে দেখা করলাম। সেদিন বয়স্ক রোগামত দেখতে একজন ডাক্তার আমাকে নানাভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বললেন- রোগ সামান্যই। চিন্তার কোন কারণ নেই। সহজেই ঠিক হয়ে যাবে। প্রয়োজন হলে অস্ত্রোপচার করতে হবে। এভাবে বলার পর তিনি ক্ষতস্থান বিশদভাবে পরীক্ষার জন্য লিখে পাঠালেন অন্য ডাক্তারের কাছে।এক সপ্তাহ পর অর্থাৎ ১৬ এপ্রিলে জুবিলি বিল্ডিঙের একটি রুমে কয়েকজন ডাক্তার আমাকে অজ্ঞান করে ক্ষতস্থান পরীক্ষা করে আমার ফাইলে নোট লিখে দিলেন। আমরা ফাইল এনে সেদিনই ডাক্তারের নিকট জমা দিলাম। ডাক্তার ফাইল নিয়ে সার্জিকেল অঙ্কোলজি ডা্ক্তারের সাথে আলোচনা করলেন। সার্জিকেল অংকোলজি ডাক্তার রিপোর্ট দেখে অপারেশ্বন করা সম্ভব হবে না বললেন। তখন ডাক্তার আমাদের ডেকে নিয়ে কেমোথেরাপি ডাক্তারের নিকট পাঠালেন। কেমোথেরাপি ডাক্তার রিপোর্ট দেখে ছুনুগ্রাফি এবং কিডনি পরীক্ষার জন্য লিখে পাঠালেন। ছুনুগ্রাফি এবং কিডনি পরীক্ষার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করার পর ডাক্তার বললেন- এক সপ্তাহ লাগবে এসব পরীক্ষা করতে। তখন আমরা আবার ডাক্তারের নিকট এসে আমাদের অসুবিধার কথা বললাম- স্যার, আমরা অনেকদিন হলো এসেছি।এখন পর্যন্ত আমাদের চিকিৎসা শুরু হয়নি। এভাবে দেরি হলে ভবিষ্যতে আমাদের অসুবিধা হতে পারে। যদি বলে-কয়ে একটু তাড়াতাড়ি করা যায়, সেই ব্যবস্থা করে দিন।
তখন ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন-কতদিন লাগবে বলেছে?
সেদিন আমার সাথে ছিলো রাহুল আমীন। রাহুল আমীন সেদিনই রাত ২ টা বাজায় বাড়ি থেকে মুম্বাই এসে পৌঁছেছিলো।রাহুল মুম্বাই পৌঁছানোর পর সাহজাহান সকালে বাড়ি চলে গিয়েছিলো। তাই সেদিন সাহজাহানের পরিবর্তে আমার সাথে ছিলো রাহুল আমীন।
রাহুল বললো- এক সপ্তাহ লাগবে বলেছেন।
তখন ডাক্তার বললেন- তাহলে বাইরে পরীক্ষা করান।
রাহুল বললো- বাইরে পরীক্ষা করালে অসুবিধা হবেনা তো?
ডাক্তার বললেন- না না, বাইরে করালেও কোন অসুবিধা হবে না। বাইরে পরীক্ষা করালে রিপোর্টগুলি তাড়াতাড়ি পাওয়া যাবে।
রাহুল জিজ্ঞেস করলো- স্যার, কোথায় পাব ছুনুগ্রাফি ও কিডনির পরীক্ষার সুবিধা?
বাইরে গিয়ে বেয়ারারদের জিজ্ঞেস করুন তারা বলে দিবে।
টাটা ইনস্টিটিউটের কোন কোন বেযারার খুবই ভালো। তারা রোগীর সাথে আন্তরিকতাপূর্ণ ব্যবহার এবং সহযোগ করে।
বাইরে এসে রাহুল একজন বেয়ারাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করাতে সে দুটি অনুষ্ঠানের কথা বললো।

ছুনুগ্রাফি
বেয়ারারএর নির্দেশ মতো গিয়ে রাহুল আমীন এর ওর নিকট জিজ্ঞাসা করে টাটা মেমোরিয়াল হসপিটালের কাছেই জারবাই ওয়াদিয়া রোড, ভোলওয়াদা পেরেল, মুম্বাইএ ছুনুগ্রাফির সুবিধা থাকার কথা জানতে পারলো। অনুষ্ঠানটিতে গিয়ে য়োগায়োগ করার পর ১৮ তারিখে ডাক্তার আসবে বললেন।
তখন রাহুল জিজ্ঞেস করলো- কিডনি পরীক্ষার সুবিধা কোথায় পাব?
রাহুল কথা বলছিলো একজন ছেলের সাথে। ছেলেটি বললো- অমুক জায়গায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। সেখানে সুবিধা থাকলেও থাকতে পারে!
রাহুল ছেলটির নির্দেশিত অনুষ্ঠানের সন্ধানে বেরিয়ে গেলো এবং আমি সেদিনের মতো রুমে চলে এলাম।
প্রায় ঘণ্টাখানেক পর রাহুল রুমে এলো।আমি জিজ্ঞেস করলাম- কি হলো, সন্ধান হলো?
রাহুল বললো- হবে বলেছে। তবে অনুষ্ঠানটিতে সেই সুবিধা নেই। অন্য জায়গায় সুবিধা আছে। লোকটি সেখানে খবর নিয়ে হওয়া না হওয়া কথাটা পরে বলবেন। ১৮ তারিখে যেতে বলেছেন।
আমরা ১৮ তারিখে নির্ধারিত সময়ে ছুনুগ্রাফির সেই অনুষ্ঠানটিতে গেলাম। ডক্টর আশীষ জৈন ছনুগ্রাফি করলেন।
ছুনুগ্রাফির রিপোর্ট সেদিনই ঘণ্টাখানেক পরে দেওয়ার কথা। তাই ছনুগ্রাফি হওয়ার পর আমাকে অনুষ্ঠানটিতে বসিয়ে রেখে রাহুল আমীন কিডনির ডাক্তারের সন্ধানে বেরিয়ে গেলো। ছুনুগ্রাফির রিপোর্টের অপেক্ষায় আমি বসে রইলাম অনুষ্ঠানটিতে। আধাঘণ্টা পরই রিপোর্ট পেয়ে গেলাম। আমি রিপোর্ট নিয়ে রুমের দিকে রওয়ানা হলাম। রাস্তায় এসে দেখি রাহুল ফুটপাতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। রাহুলকে দেখে আমি জিজ্ঞাসা করলাম- কিডনি পরীক্ষার সুবিধা পাওয়া গেছে কি?
রাহুল বললো- পাওয়া গেছে।তবে লোকটি এখন অফিসে নাই, আধা ঘণ্টা পর যেতে বলছে। এভাবে বলেই রাহুল বললো- সকাল থেকে কিছু খাওয়া হয়নি। চল, কিছু খেয়ে নেই।
ফুটপাতের একটি দোকানে গিয়ে রাহুল মেডওয়ারা খেলো আর আমি খেলাম ডোছা। ডোছা খেতে টক। মেডওয়ারা খেয়ে রাহুল সেই লোকটির সন্ধানে বেরিয়ে গেলো। ডোছা খাওয়ার পর আমার পেট গুর গুর করে ডেকে উঠলো। অর্থাৎ পায়খানার বেগ হলো। টক ডোছা খাওয়ার জন্যই এরকম হলো মনে হয়। আমি তাড়াতাড়ি রুমের দিকে রাওয়ানা হলাম। আধা রাস্তা আসার পর পায়খানার বেগ খুবই বেশি হলো। কাপড় নষ্ট হওয়ার অবস্থা আর কি। ভাগ্য ভালো সামনেই স্বচ্ছ ভারত অভিযানের লেট্রিন পেয়ে গেলাম।মুম্বাইতে এই সুবিধা প্রায় সব জায়গায়ই রয়েছে। খুব ভালো ব্যবস্থা। পথচারীর খুবই উপকারে লাগে। পায়খানা করার পর রুমে এলাম। সকালে গোসল করা হয়নি। তাই গোসল সেরে বিশ্রাম নিতে লাগলাম।

কিডনি টেস্ট
প্রায় এক ঘণ্টা পর রাহুল এলো। সে এসে বললো- কিডনি পরীক্ষার সুবিধা পাওয়া গেছে। কাল সকাল আটটার ভেতরে যেতে হবে। অনুষ্ঠানটির বিভিন্ন জায়গায় এজেণ্ট আছে। এজেণ্টের সাথে যোগাযোগ করে টাকা জমা দেওয়া হয়ে গেছে।
অনুষ্ঠানটির অবস্থান ছিলো, সৰ্বোদয় হসপিটাল প্ৰেমিছেছ, এল,বি,এস মাৰ্গ, ঘাটকুপার মেট্ৰো স্টেসন, ঘাটকুপার(ওযেস্ট), মুম্বাই-৪০০০৮৬। অনুষ্ঠানটির নাম জীয়ো। লাল বাহাদুর শাস্ত্রী মার্গের নিকটে। পরের দিন সকালে আটটার মধ্যে সেই অনুষ্ঠানে গিয়ে পঞ্জীয়ন করালাম। আধা ঘণ্টা পর আমার ডাক পড়লো। ভেতরে যাওয়ার পর আমাকে অনুষ্ঠানটির কাপড় পরতে দিলো। সাথে পরতে দিলো ডাইপার। কাপড় বদলানোর পর ভেতরে ডেকে নিয়ে গেলো। সেখানে একটি রুমে বসতে দিয়ে জল খেতে দিলো। অনুমান প্রায় ৩ লিটার জল খেলাম। একবার একজন নার্স এসে আমার রক্ত নিয়ে গেলো।কিছুক্ষণ পর আরেকজন নার্স এসে আমাকে ডেকে বাইরে নিয়ে এসে কাপড় ও ডাইপার খোলে আমার নিজের কাপড় পরতে বললেন। তাঁদের নির্দেশ মতো আমার নিজের কাপড় পরলাম। কাপড় পরার পর আমাকে বাইরে বেরিয়ে যেতে বললেন। কি কার্য, কি ঘটনা কিছুই বুঝতে পারলাম না। পরীক্ষা করার আগেই আমাকে এভাবে বাইরে বের করে নিয়ে আসা হলো কেনো। বাইরে এসে দেখি রাহুল দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করাতে সে বললো-হসপিটাল থেকে যে পরীক্ষা করতে বলছে সেই পরীক্ষার সুবিধা এখানে নেই। যারজন্য পরীক্ষা না করেই বের করে দিয়েছে।
আমি বললাম- এখন উপায়?
রাহুল বললো- ডাক্তারের কাছে গিয়ে দেখি ডাক্তার কি বলে।
টাটা মেমোরিয়াল হসপিটালে এসে ডাক্তারের কাছে কথাটা বলাতে ডাক্তার বললেন- সেখানে যে পরীক্ষাটা করা সম্ভব, সেটা করলেই হলো।অসুবিধা নেই। অবশ্যে যেটা লিখে দিয়েছিলাম সেটা করাতে পারলে বেশি ভালো হতো।
তখনই ঘাটকুপার(ওযেস্ট)এর জীয়ো অনুষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ কর হলে তাঁরা বললেন- আজ আর পরীক্ষা করা সম্ভব হবে না।আজ শুক্রবার। সমবার আসুন, সেদিন পরীক্ষা করা হবে। টাকা জমা দিন।
তখন রহুল বললো- টাকাতো জমা দেওয়াই আছে।
তখন অনুষ্ঠান থেকে বললেন- সে টাকা আপনাদের ফেরত দিয়ে দিবে।তারা আমাদের অনুষ্ঠানের এজেণ্ট। কোন অসুবিধা নেই।
টাকা জমা দেওয়া হলো। আগে যে এজেণ্টের কাছে টাকা জমা দিয়েছিলাম সেই এজেণ্ট আমাদের একাউণ্টে টাকা ফেরত দিলেন। সমবার ২৩ এপ্ৰিলে সৰ্বোদয় হসপিটাল প্ৰেমিছে গিয়ে রেজিস্টার করালাম। আগের দিনের মতোই কাপড় বদলিয়ে আগের দিন যে রুমে বসে জল খেয়ে ছিলাম সেদিনও সেই রুমে বসে প্রায় তিন-চার লিটার জল খেলাম। সেদিন আগ্রহ করেই বেশি পান করলাম।কারণ যে নার্সটি জল পান করতে দিয়েছিলেন তিনি বলেছিলেন- যত বেশি জলপান করবেন তত পরীক্ষা ভালো হবে। তাই যত বেশি সম্ভব জল পান করুন।
প্রায় চল্লিশ মিনিট পর একজন নার্স আমাকে একটি রুমে ডেকে নিয়ে গেলেন। প্রায় একঘণ্টা লাগলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে। পরীক্ষার পর আমি কাপড় পাল্টিয়ে আমার নিজস্ব কাপড় পরে বাইরে বেরিয়ে এলাম। রিপোর্ট তিনঘণ্টা পরে দিবে বললেন। রাহুল আমীন অনুষ্ঠানের ভেতরেই বসে রইলো রিপোর্টের অপেক্ষায়। আমি বাইরে বসে রাহুলের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম।অনুষ্ঠানটির বিশেষত্ব হলো, অনুষ্ঠানিটির ওপড় দিয়ে এরোপ্ল্যান চলে। প্রায় মিনিটে মিনিটে। একটার পরা একটা।মনে হলো কাছেই এয়ার ফিল্ড। সেই দৃশ্য দেখে দেখে সময় পার করতে লাগলাম। ঘণ্টাখানেক পর রাহুল রিপোর্ট নিয়ে এলো। রিপোর্ট নিয়ে এসে সেদিনই টাটা মেমোরিয়াল হসপিটালের সার্জিকেল অংকোল’জিস্ট ডাক্তারের নিকট জমা দিলাম।
সার্জিকেল অংকোলিজিস্ট ডাক্তার রিপোর্ট না দেখেই আমাদের রেডিয়েশ্বন ডাক্তারের কাছে পাঠালেন। রেডিয়েশ্বেনর ডাক্তার নানাভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ৩৫ টা রেডিয়েশ্বন নিতে হবে বলে লিখে দিলেন। তারপর আবার সার্জিকেল অংকোলজিস্টের কাছে এলাম। ডাক্তার ছয়টা কেমো লিখে দিলেন এবং সাথে সাথে আমাদের সাথে আলোচনা করে গুয়াহাটীর বি, বরুয়া কেন্সার ইনস্টিটিউটে রেফার করে চিঠি লিখে দিলেন। এরপর রেডিয়েশ্বেনর ডাক্তাররের নিকট গেলাম।রেডিয়েশ্বন ডাক্তারও রেফার লেটার লিখে দিলেন।
পরের দিন ২৪ তারিখ সকাল নটার আগেই ভাড়ারুম ছেড়ে দিয়ে মুম্বাই এয়ারপোর্ট এলাম। ফ্লাইট ছিলো বিকেল একটায়। সেখান থেকে বিকেল একটায় মুম্বাই থেকে ফ্লাইটে কলকাতা এলাম। কলাকাতায় ফ্লাইট লেট ছিলো।কলকাতা থেকে সন্ধ্যে আটটায় বিমান ছাড়লো। রাত নটায় গুয়াহাটীতে অবতরণ করলাম। গুয়াহাটী আসার পর হামিদুলের টেক্সিতে চড়ে আমি বাড়ি চলে এলাম। রাহুল গুয়াহাটীতে তাঁর ভাড়াঘরে থেকে গেলো।এভাবেই আমাদের চিকিৎসার প্রথম পর্যায়ের অর্থাৎ মুম্বাই সফরের অবসান ঘটলো।

বি, বরুয়া ক্যাসার ইনস্টিটিউট
বি, বরুয়া ক্যাসার ইনস্টিটিউট- আমি ২৪ এপ্ৰিল রাত ১১-৩০ টায় বাড়ি এসে পৌঁছেছিলাম। সেদিন ছিলো বুধবার। ২৫ এপ্ৰিল সকাল নটায় বি, বরুয়া ইনস্টিটিউটে ফোন করে জানতে পারলাম ডাক্তার সমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত রোগী দেখে। তাই আমরা শুক্রবার গেলে ডাক্তার দেখাতে পারতাম। কিন্তু সবার সাথে আলোচনা করে ২৮ এপ্ৰিল গুয়াহাটী যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। সিদ্ধান্ত মতেই ২৮ এপ্ৰিল আমার সমুন্দি হোসেন আলীর ছেলে বাহাদুর ইসলামের সাথে গুয়াহাটী বি, বরুযা কেন্সার ইস্টিটিউটে গিয়ে নাম রেজিস্টার করালাম। নাম রেজিস্টারের পর ডাক্তারের নিকটে গেলাম। মুম্বাইর ডাক্তার কান, স্পিচ এবং দাঁতের পরীক্ষা মুম্বাইতেই করতে বলেছিলো যদিও সময়ের অভাবে একমাত্র কানের পরীক্ষা মুম্বাইতে করিয়েছিলাম। স্পিচ এবং দাঁতের পরীক্ষা গুয়াহাটীতে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাড়ি চলে এসেছিলাম। আমাদের ফাইল দেখে ডাক্তার দাঁত এবং স্পিচ পরীক্ষার জন্য বিভাগীয় ডাক্তারের কাছে লিখে পাঠালেন। আমরা প্রথমে দাঁতের ডাক্তারের নিকটে ফাইল জমা দিলাম। সেখানে ফাইল জমা দেওয়ার পর দেখা গেলো দাঁতের ডাক্তারের সামনে অনেক ফাইল জমা হয়ে আছে। তাই বাহাদুরের সাথে পরামর্শ করে প্রথমে স্পিচ পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে দাঁতের ডাক্তারের নিকট থেকে ফাইল এনে স্পিচ পরীক্ষার ডাক্তারের নিকট জমা দিলাম। সহজেই স্পিচ পরীক্ষা হয়ে গেলো। স্পিচ পরীক্ষা করানোর পর আবার দাঁতের ডাক্তারের কাছে এসে দেখি তখনও অনেক ফাইল জমা হয়ে আছে ডাক্তরের সন্মুখে। তাই পরে এসে পরীক্ষা করাব, এভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে সেদিনকার মতো বাড়ি চলে এলাম।
তিন মে’ বি বরুয়া ইনস্টিটিউটে দাঁতের ডাক্তারের কাছে গেলাম। ডাক্তার দাঁতের এক্সরে করার জন্য ভাঙাগড় ম্যাডিকেল এ পাঠালেন। সেখান থেকে এক্সরে করে আসার পর এক্সরে রিপোর্ট দাঁতের ডাক্তারের নিকট জমা দিলাম। এক্সরে রিপোর্ট দেখে ডাক্তার আমাদের আবার তের এপ্রিলে যেতে বলে পাঠালেন। সেদিন আমার সাথে ছিলো মেজো ছেলে সাহজাহান আলী আহমেদ। আমরা বাড়ি চলে এলাম। বাড়ি আসার কয়েকদিন পর ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী তের তারিখে আবার দাঁতের ডাক্তারের কাছে গেলাম।
সেদিন আমার সাথে ছিলো ছোট ছেলে রাহুল আমীন। ডাক্তার এক্সরের রিপোর্ট দেখে গোনে গোনে সাতটা দাঁত খোলে ফেললেন। অর্থাৎ সেদিন থেকে আমার চিকিৎসা শুরু হলো। এক মাস উন্নিশ দিন শুধু পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যস্ত ছিলাম।এক মাস উন্নিশ দিন পর প্রথম চিকিৎসা শুরু হলো দাঁত খোলার মাধ্যমে। দাঁত খোলার পর ডাক্তার ওষুধ লিখে দিয়ে ১৭ তারিখে রেডিযেশ্বেনর ডাক্তারের সাথে দেখা করতে বললেন। ডাক্তারের নির্ধারিত ১৭ তারিখে রেডিয়েশ্বেনের ডাক্তারের সাথে দেখা করলাম। ডাক্তারের সাথে দেখা করার পর ডাক্তার আমাকে শেভ হয়ে আসতে বললেন। কারণ আমার মুখে তখন মাঝারি রকমের দাড়ি ছিলো।
শেভ হওয়ার জন্য সেলুনের সন্ধানে বের হলাম। একটু দক্ষিণ দিকে যাওয়ার পরই সেলুন পেয়ে গেলাম।একজন লোক শেভ হচ্ছিলো। আমি দোকানের সামনে দাঁড়াতে দেখেই নাপিত বললো-আমি দোকান বন্ধ করব,আপনি অন্যত্র যান। তবু আমি দাঁড়িয়েই রইলাম। তখন নাপিত বললো- আমি দোকান বন্ধ করব। দাঁড়িয়ে আছেন কেন?
আমি বললাম- আমার শেভটা করে দোকান বন্ধ করুন। কত আর সময় লাগবে?
নাপিত কিছু বলার আগেই রাহুল আমিন সেখানে এলো। কারণ কাছে আরও কোথাও সেলুন আছে নাকি দেখার জন্য রাহুল আমিন একটু এগিয়ে গিয়েছিলো। সে বললো- একটু আগেই আরও একটি সেলুন আছে। সেখানে চলুন।
রাহুলের কথা মতো সেই সেলুনের সন্ধানে বের হলুম। সেলুনে এসে শেভ হওয়ার কথা বলাতে নাপিত বললো- আমি শেভ করতে পারব না। অন্যত্র যান। আমি দোকান বন্ধ করব।
তখন রাহুল আমীন বললো- চলুন এখানেও কাজ হবে না।
আমি বললাম- কেন, কি অসুবিধা হয়েছে?
রাহুল বললো- এরা ক্যান্সার রোগীর দাড়ি কামাবে না। ভয় করছে।
তাহলে এখন উপায়? আমি জিজ্ঞেস করলাম।
রাহুল বললো- আর একটু এগিয়ে গিয়ে চেষ্টা করে দেখি। আগত্যা কেউ যদি দাড়ি না কাটে তাহলে ব্লেড কিনে শেভ হতে হবে।
একটু এগিয়ে গিয়ে রাস্তার অপর প্রান্তে একটি সেলুন দেখতে পেলাম। তখন রাহুল বললো- আপনি একা যান। দুজন গেলে ক্যান্সার রোগী বলে সন্দেহ করতে পারে।তখন শেভ নাও করতে পারে!
এভাবে বলে রাহুল ফুটপাতে দাঁড়িয়ে রইলো।
রাহুলের পরামর্শ মতো আমি রাস্তা পার হয়ে একাই সেলুনে গেলাম। শেভ হওয়ার কথা বলাতে নাপিত আমাকে বসতে বললো। তারপর শেভ করে দিলো। শেভ হওয়ার জন্য চল্লিশ টাকা নিলো। আমি শেভ হয়ে রাস্তায় বেড়িয়ে আসার পর রাহুল এসে আমার সাথে মিলিত হলো। তারপর আমরা হেঁটে বি, বরুয়া ক্যান্সার হসপিটালে এসে রেডিয়েশ্বনের ডাক্তারের নিকটে এলাম। রেডিয়েশ্বেনর ডাক্তার প্লাস্টিকের মুখা বানালোর জন্য আমার মুখের জোখ নিলেন এবং ২১ মেতে রেড়িয়েশ্বন প্রদান করা হবে বলে পাঠালেন।

রেডিয়েশন মেসিন
এখানে বলে রাখা ভালো যে, দাঁত খোলার আগে আমার খাওয়া-দাওয়া চলাফেরায় কোনরূপ অসুবিধা ছিল না। আল জিভার ছাইডে তালুতে ইনফেকশ্বন ছিল যদিও কোন রকম বিষবেদনা অথবা খাওয়াদাওয়ায় সমস্যা ছিলনা। দাঁত খোলার পর থেকে খাওয়া-দাওয়ায় অসুবিধা হয়েছিলো।
রেডিয়েশ্বন শুরু- ডাক্তারের নির্ধারিত ২১ মে’তে সাহজাহানের সাথে বি, বরুযা কেন্সার হসপিটালে গেলাম।যাবতীয় কাজকাম সম্পন্ন করার পর ডাক্তার বিকেল আড়াইটা রেডিয়েশ্বন প্রদান করা হবে বলে সময় নির্ধারিত করে দিলেন। তখন সময় হয়েছিলো দুপুর ১২ টা। কোন করণীয কাজ ছিলনা। তাই আগেভাগে গিয়েই রেডিয়েশ্বনের ওয়েটিং রুমে বসে রইলাম। সেখানে আগে থেকেই অনেক লোক বসেছিলো রেডিয়েশ্বনের অপেক্ষায়। রোগীদের অবস্থা খুবই দুর্বল। সবাই বসে বসে ঝিমুচ্ছে। সেখানে কয়েক রোগী এবং রোগীর অভিভাবকের সাথে পরিচয় হলো। তার মধ্যে অন্যতম ছিলো গৌরীপুরের আব্দুল মোতালেব এবং কাপাইটারীর অনন্ত সরকার। মোতালেবের বয়স পঞ্চাশের কিছু উর্দ্ধে। রোগামত। মাঝারি গঢ়নের লোক। তার জিভায় কামোর লেগে ক্যান্সার হয়েছে। অনন্ত সরকার বয়স্থ লোক। ষাঠের কাছাকাছি বয়স। লাগাম ঘাঁ থেকে ক্যান্সার হয়েছে। অনন্ত সরকারের স্ত্রী খুবই সরবরহী মহিলা। ভাড়ারুমের কথা বলাতে তিনি শঙ্করদেব লজের ফোন নম্বর দিলেন। অনুমান তিনটে বাজাতে রেড়িয়েশ্বন প্রদান করা হলো। সময় লাগলো প্রায় আধাঘাণ্টা।
রেড়িয়েশ্বনর পর অনুষ্ঠান থেকে বাইরে বেড়িয়ে এলাম।সেদিন ছিলো বুধবার।রাতে কোথায় থাকবো? ভাড়াঘর নিতে হবে। শঙ্করদেব লজের সন্ধানে বের হলাম । লজটা কাছেই। সরাবভাটিতে। হসপিটাল থেকে পাঁচ সাত মিনিটের রাস্তা। সাহজাহান এবং আমি শঙ্করদেব লজের সন্ধানে বের হলাম। সামনে পড়লো একটি ভাতের হোটেল।সকালে বাড়ি থেকে কয়েকটা মুড়ি খেয়ে গিয়েছিলাম। খুব ক্ষিদে পেয়েছিলো। তাই ভাতের হোটেল দেখে ক্ষিদে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেলো। আমি বললাম- খুব ক্ষিদে পেয়েছে। চল, ভাত খেয়ে নিই।
সাহজাহান বললো-আমারও ক্ষিদে পেয়েছে।চল, ভাত খেয়ে তারপর শঙ্করলজে ফোন লাগাব।
হোটেলে গিয়ে ভাত খেলাম। তবে ভাত ঠিকমতো খেতে পারলাম। এদিকে দাঁত নেই। তদুপরি ক্ষিদেও পেয়েছিলো যথেষ্ট। বেশি ক্ষিদে পেলে ভাত ঠিকমতো খাওয়াও যায়না। এদিকে সব্জিও তেমন ভালো ছিলনা। যাহোক, কোনমতে নাকেমুখে ভাত গিলে রাস্তায় বেরিয়ে এলাম। রাস্তায় বেরিয়েই সাহজাহান শঙ্করদেব লজে ফোন লাগালো। ফোন রিসিভ করার পর রুমের কথা বলা হলো। শঙ্করদেব লজের মালিক বললো, আজ রুম খালী নেই পরে যোগাযোগ করুন। এভাবে বলে সে ফোন কেটে দিলো।
এখন উপায়? রাত তো কাটাতে হবে কোথাও! ছোট ছেলে রাহুল জালুকবারীতে ভাড়াঘরে থাকে। ভালো পাকা ঘর। মেঝেতে টাইলস বিছানো।ওরা দুই জনে রুম শেয়ার করে থাকে। যার সাথে রুম শেয়ার করে থাকে ছেলেটি ভালো। গোয়ালপারা জেলার লোক। ছেলেটি এম ফার্ম। রাহুল এবং ছেলেটি একই ওষুধ প্ৰস্তুত কোম্পানীতে কর্মরত। রাহুলদের সেখানে অবশ্যে একজনের জন্য থাকার সুবিধা আছে। দুইজন হলে একটু অসুবিধা হবে।তবু ভেবেচিন্তে সেখানে থাকারই সিদ্ধান্ত নিলাম।
সাহজাহানের শ্যালক আনোযার হোসেন গুয়াহাটীতে জামাটু কোম্পানীতে কর্মরত। আমাদের মাঝে গুয়াহাটীতে রাত থাকা সম্পর্কে আলোচনা চলে থাকার মাঝেই আনোয়ার এসে সেখানে উপস্থিত হলো। সে জিজ্ঞেস করলো- আজ বাড়ি যাবেন, না গুয়াহাটীতেই থাকবেন?
সাহজাহান বললো- গুয়াহাটীতেই থাকতে হবে।কারণ কাল আবার রেডিয়েশ্বন নিতে হবে।
কোথায় থাকবেন? আনোয়ার জিজ্ঞেস করলো।
ভাড়াঘর তালাশ করলাম। রুম খালী নেই। তাই রাহুলের ওখানে থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম। সাহজাহান বললো।
আনোয়ার বললো- অসুবিধা হলে আমার রুমেও থাকতে পারবেন।
তুমি কোথায় থাকবে? সাহজাহান জিজ্ঞাসা করলো।
আমার থাকার অসুবিধা নেই। একজনের সাথে রুম শেয়ার করে থাকতে পারব। এভাবে বলেই আনোয়ার বললো- সেখানে রুমও পেয়ে যাবেন। তাই আমার সেখানেই চলুন।
এমন সময় ফোন করলেন গৌরীপুরের আব্দুল মোতালেব। তার কাছেও রুমের কথা বলছিলাম। সে ধীরেন পাড়াতে একটি ভাড়ারুমে থাকে। আব্দুল মোতালেব বললো- রুমের কথা বলছিলেন, এখানে একটি রুম আছে। দেখতে পারেন।
তখনই সাহজাহানের সাথে আলোচনা করে ধীরেন পারা গিয়ে মোতালেবের সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তার রুমের কাছেই একটি রুম দেখালো। রুমটা পছন্দ হলো না। তখন মোতালেব একটি ভাতের হোটেলে নিয়ে গেলো এবং হোটেলের মালিকের সাথে রুমের বিষয়ে বললো। হোটেল মালিক মন্দিয়ার লোক। তখন লোকটি বললো- আমার এখানেই রুম আছে দেখতে পারেন।
সাহজাহান বললো- চলুন, তাহলে দেখি কেমন রুম।
হোটেল মালিক আমাদের রুম দেখাতে নিয়ে গেলো। রুমটি হোটেলের সাথেই সংলগ্ন। রুমটি মোটামুটি মন্দ নয়। তবে কোন খাট পালেঙ নেই।
সাহাজহান বললো- কোন খাট পালেঙ নেই থাকব কেমনে?
তখন হোটেলের লোকটি বললো- খাট-পালেঙ নাকখেও অসুবিধা নেই।একটি ম্যাট্রেস কিনে নিলেই হবে।
সাহাজাহান আমাকে উদ্দেশ্য করে বললো-আপাতত যখন রুম পাওয়া যাচ্ছে না, তখন এটি নিলেই হলো। পরে ভালো রুম পেলে শিফ্ট হলেই হবে।এভাবে বলেই সাহজাহান হোটেল মালিককে উদ্দেশ্য করে বললো- ভাড়া কত দিতে হবে?
হোটেল মালিক বললো- ভাড়া দৈনিক তিনশ টাকা দিতে হবে। এভাবে বলেই লোকটি বললো- রুম পছন্দ হলে কিছু অগ্রিম দিয়ে যেতে হবে।
হোটেল মালিকের কথা মতো পাঁচশ টাকা অগ্রিম ভাড়া দিয়ে রুম বন্দবস্ত করে আনোয়ার হোসেনের ভাড়াঘরে এলাম। আনোয়ারের রুমে রান্নাবান্নার সুবিধা আছে।
আমরা রান্নাবান্নার ঝামেলায় গেলাম না। কারণ আমরা হোটেল খেয়ে নিয়েছিলাম। এদিকে ঘূরাঘূরি করাতে রাতও যথেষ্ট হয়েছিলো। আনোয়ার আমাদের তার রুমে সবকিছু দেখিয়ে দিয়ে সে অন্য একটি রুমে চলে গেলো। তাই দেরি না করে সাহজাহান ও আমি শোয়ে পড়লাম। গরমের দিন। প্রচণ্ড গরম। রুমে ফ্যান একটা ছিলো। প্রচণ্ড ক্যার ক্যার শব্দ করে ফ্যান চলছিলো। ফ্যানের ক্যার ক্যার শব্দে আমার মাথা ধরে গেলো। আমার পক্ষে এভাবে থাকা সম্ভব হবে না ভেবে আমি সাহজাহানকে বললাম- ফ্যানের ক্যার ক্যার শব্দে আমার মাথা ধরে গেছে। প্রচণ্ড বিষ করতেছে। এখানে থাকলে আমার ঘুম হবেনা। রাহুলকে খবর দাও। সে এসে আমাকে তার রুমে নিয়ে যাক।
সাহজাহান রাহুলের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলো। প্রায় চল্লিশ মিনিট অপেক্ষা করার পর রাহুল এলো।মোটামুটি রাত সাড়ে দশটায় আমি রাহুলের সাথে তার ভাড়াঘরে চলে এলাম।সেখানে এসে সাবান দিয়ে মাথা ধুইয়ে নিলাম। মাথা ধোয়ার পর মাথার বিষ একটু কমল। ফলে আমি শোয়ে পড়লাম। তবে ঘুম আসছিলো না। নতুন জায়গায় এমিনতেও ঘুম এটু কম হয়। তদুপরি সেদিনই প্রথম রেডিয়েশ্বন নিয়েছিলাম। তাই হয়তো ঘুম আসছিলো না। এদিকে কিছু ক্ষিদের ভাবও ছিলো। ভাত খেয়েছিলাম সেই বিকেল চারটে সাড়ে চারটেয়। তাই রাত বারটায় প্রচণ্ড ক্ষিদের ভাব হলো। রাহুলকে ডেকে তুলে কাঁচা মরিচ দিয়ে পান্তা ভাত খেলাম। ভাত খাওয়ার পর শরীরটা একটু সুস্থ অনুভব করতে লাগলাম। তাই শোয়ার সাথে সাথেই ঘুমিয়ে পড়লাম।সকাল বেলা উঠতে একটু দেরি হলো। ঘুম থেকে উঠে দেখি রাহুল ভাত বসিয়ে দিয়েছে।
আমি হাতমুখ ধোয়ে এসে রাহুলকে বললাম- আজ রেডিয়েশ্বন নিতে হবে। তুমি কি আমার সাথে যেতে পারবে?
রাহুল বললো- না, আমার যাওয়া সম্ভব হবে না। ভাই তো আছেই। (ভাই মানে সাহজাহান।) আমি না গেলেও হবে।
আমি বললাম- আমি একা যেতে পারব কি? আমি ওলা বুকিং করতে জানি না।
রাহুল বললো- আমাদের ভেড়াগাঁর কাদের এখানেই কোথাও থাকে।কাদেরও টোম্পো চালায়। দুইদিন আগে কাদেরকে আমি জালুকবারী দেখেছি। আমি কাদেরের নম্বর যোগার করে ওর সাথে আলোচনা করে দেখি। চেনাজানা লোক। কাদের নিয়ে গেলে খুবই সুবিধা হবে।কাদের কাছেই কোথাও থাকে। আর এখানে থেকেই যদি রেডিয়েশ্বন নিতে হয়, তাহলে একমাসের জন্য ভাড়া বন্দবস্ত করে দিব। এখন নম্বর যোগার করতে পারলেই হলো।
এর আগে বাহাদুর ইসলামের সাথে যখন গিয়েছিলাম তখন সোহরাবের টোম্পোতে করে বি, বরুয়া হসপিটালে গিয়েছিলাম। সেজন্য সোহরাবের নম্বর আমার কাছে ছিলো। তাই আমি বললাম- সেদিন সোহরাবকে নিয়ে বি, বরুয়ায় গিয়েছিলাম। সোহরাবের নম্বর আমার কাছে আছে। সোহরাব যদি যায় তাহলে আর কাদেরের নম্বর যোগার করতে হবে না। সোহরাবকে নিয়ে গেলেই হবে।
রাহুল বললো-তাহলে সোহরাবকে ফোন লাগাও। সোহরাব যদি যায় তাহলে তো ভালই হবে।
আমি সোহরাবকে ফোন লাগালাম। সোহরাব ফোন রিসিভ করে বললো-তাওই, বলুন।(সোহরাবের পিতৃ আমার মিত্র। তাই সোহরাব আমাকে তওই বলে ডাকে)
আমি বললাম- তুমি কোথায় আছ?আজও বি, বরুয়ায় যেতে হবে।
সোহরাব বললো- আমি তো তাওই কালকে বাড়ি এসেছি। আপনি এখন কোথায় আছেন?
আমি বললাম- আমি বর্তমান গারিগাঁয় রাহুলের রুমে আছি।
সোহরাব বললো- কাদেরও গারিগাঁয়ই আছে। আপনি কদেরের সাথে যোগাযোগ করুন।
আমি বললাম- আমার কাছে তো কাদেরের নম্বর নাই। তুমি তাহলে কাদেরের নম্বর দাও।
সোহরাব কাদেরের নম্বর দিলো। কাদেরের সাথে যোগাযোগ করে রাহুল তার টেম্পো বন্দবস্ত করলো। বি, বরুয়ায় সময় মতো নিয়ে যাবে এবং রেডিয়েশ্বন নেওয়া হলো নিয়ে আসবে। ভাড়া দৈনিক চারশ টাকা। রাহুলের ভাড়ারুম থেকে আব্দুল কাদের সেদিনই আমাকে সকাল দশটায় বি, বরুয়ায় নিয়ে এলো। আমাকে হসপিটালে নামিয়ে দিয়ে কাদের অ্ন্য ভাড়ার সন্ধানে বেরিয়ে গেলো। আনোয়ারের ভাড়ারুম থেকে আমার আগেই এসে সাহজাহান হসপিটালে পৌঁছে ঘূরাঘূরি করতে ছিলো। সে আমাকে দেখে এগিয়ে এলো। সেদিন আমাদের কেমোর ডাক্তারের সাথে দেখা করার কথা ছিলো। এদিকে রেডিয়েশ্বন দিবে বিকেল আড়াইটেয়।তাই আমরা রিসেপশনে ফাইল জমা দিয়ে কেমোর ডাক্তারের ডাকের জন্য অপেক্ষা করতে লগলাম। এক সময় আমাদের ডাক পড়লো।ডাক্তারের কাছে গেলাম। ডাক্তার আমাদের রক্ত পরীক্ষা করতে বললেন।কাউণ্টারে টাকা জমা দিয়ে রক্ত পরীক্ষা করতে দিলাম।রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দিবে চার ঘণ্টা পর। রেডিয়েশন দিবে আড়াইটা বাজায়। মাঝের এই সময়টুকু কোন কাজ ছিল না। সাহজাহান বললো- আমি সকালে কিছু খাইনি। ক্ষিদে পেয়েছে। চল, ফুটপাতের হোটেলে গিয়ে কিছু খেয়ে নিই।
দুজন ফুটপাতের একটি হোটেলে এলাম। আমি রাহুলের ওখানে সকালে ভাত খেয়ে এসেছিলাম। তাই আমি বললাম- আমি সকালে ভাত খেয়ে এসেছি। তুমি ভাত খাও। আমি অন্য কিছু খাই।
সাহজাহান ভাত খেলো। আর আমি খেলাম লুচি। দুটো বাজায় রক্তের রিপোর্ট এলো। রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলাম। রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বললো- না, আমি যে পরীক্ষা করতে দিয়েছি সে পরীক্ষা করা হয়নি। এই পরীক্ষা না করালেও হতো। তখন ডাক্তার ভাস্কর নামের একজনকে ফোন লাগিয়ে বললেন- আপনার ওখানে অমুক পরীক্ষা করা সম্ভব হবে নাকি? আমি লোক পাঠাইতেছি। পরীক্ষাটা করে দিতে হবে।
এভাবে বলে ডাক্তার আমাদের একটি ফোন নম্বর দিলেন। আমরা ফোন নম্বর নিয়ে রেডিয়েশ্বন নিতে এলাম। সেদিন ছিলো ২২ মে। সেদিন আড়াইটা বাজায় দ্বিতীয়টি রেডিয়েশ্বন নিলাম। রেডিয়েশ্বন নেওয়ার পর ভাস্করকে ফোন লাগালাম। ভাস্করের চেম্বার খানাপারার কোন এক জায়গায়। ফোন রিচিভ করে ভাস্কর বললো- আপনাদের খানাপারা আসতে হবে না। আমি হসপিটালে গিয়ে রক্ত সংগ্রহ করে নিয়ে আসব। যাওয়ার আগে ফোন করে যাব।
এরপর কাদেরকে ফোন লাগালাম। কাদের কাছেই কোথাও ছিলো। সে এসে আমাদের জালুকবারী নিয়ে এলো। ২৩ মে” বুদ্ধ পূৰ্ণিমার জন্য হসপিটাল বন্ধ ছিলো। তাই সাহজাহান বাড়ি চলে এলো। কাদের আমাকে রাহুলের ভাড়ারুমে নামিয়ে দিলো।
রাহুল সন্ধ্যায় রুমে এসে ভাড়াঘরের সন্ধান করতে লাগলো। রুম অনেক আছে, কিন্তু কেউ রুম দিতে রাজি হলো না।কেন্সার রোগী। সেজন্যই মনে হয়! সেজন্য ২৩ তারিখ রাতে শঙ্করদেব লজে ফোন লাগিয়ে একটি রুম খালী আছে বলে জানতে পারলাম।পরের দিন সকালে কাদেরের টেম্পোতে চড়ে শঙ্করদেব লজে এসে রুম বন্দবস্ত করলাম। ভাড়া প্রতিদিন চারশ টাকা।সেদিন আমার সাথে :ছিলো মেজো ছেলে সোলেমান কবীর। সোলেমান সকালে বাড়ি থেকে গিয়েছিলো।সেদিন ছিলো ২৪ মে শুক্রবার। রুম বন্দবস্ত করার পর বিকেল তিনটেয় রেডিয়েশ্বন নিলাম। রেডিয়েশ্বন নেওয়ার পর সোলেমান কবীর এবং আমি রুমে এলাম। এদিকে বাড়ি থেকে রান্না-বান্নার সরঞ্জাম সহ আমার পরিবার তারাবানু শঙ্করদেব লজে এলো।সোলেমান কবীর সেদিন আমাদের সাথে রুমেই থেকে গেলো। মাঝে দুইদিন অর্থাৎ শনি ও রবিবার হসপিটাল বন্ধ ছিলো বলে পরের দিন সকালে সোলেমান কবীর বাড়ি চলে এলো। এর মধ্যে একদিন ভাস্কর আমাদের ভাড়ারুমে এসে রক্ত সংগ্রহ করে নিয়ে গেলো। রক্ত দিল্লী থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনতে হবে। তাই রিপোর্ট আসতে দুইদিন দেরি হবে বললেন।ঠিক দুইদিন পর ভাস্কর ভাড়ারুমে এসে রক্তের রিপোর্ট দিয়ে গেলেন।
এরপর দুইদিন শোয়েবসে কাটালাম।২৭ তারিখ সমবার আবার রেডিয়েশ্বন নিলাম।এর পর শুক্রবার অর্থাৎ ৩১ মে পর্যন্ত রেডিয়েশ্বন নিলাম। ৩১ মে কেমো ডাক্তারের কাছে গেলাম। ভাস্করের রিপোর্ট ডাক্তারের নিকট জমা দিলাম। রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বললেন- সব ঠিকই আছে। কাল আপনাকে কেমো প্রদান করা হবে। এভাবে বলে ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা করতে বললেন। রক্ত পরীক্ষা করালাম। ৪ ঘণ্টা পর রিপোর্ট এলো। রিপোর্ট দেখানোর পরা ডাক্তার চৈধ্য হাজার টাকা জমা দিতে বললেন। কাউণ্টারে টাকা জমা দিলাম। পরের দিন শনিবার সকাল আটটা চৌয়ান্ন মিনিটে কেমো নিলাম। প্রথম কেমো নেওয়ার আগে একটু ভয় করছিলাম। শুনেছিলাম, কেমোর সময়ে বোলে বমি হয়। আমার অবশ্যে কিছুই হলো না। খুব আরামেই কেমো নিলাম। নার্সও খুব ভালো ছিলো। ব্যবহার খুবই অমায়িক। মণিপুরী নার্স। পাঁচ ছ ঘণ্টা সময় খুব ভালোভাবেই কেটে গেলো।
কেমো নেওয়ার সময় সেদিন আমার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলো চান মাহমুদ এবং তাজ উদ্দিন সাহাব। চান মাহমুদ আমার ছাত্র ও তাজ উদ্দিন আমার সম্পর্কীয় ভাগ্নী জামাই। তাঁরা প্রথমে দেখা করতে গিয়েছিলো ওবিসি, আসামের সভাপতি অমর গগৈর সাথে।অমর গগৈ ফোন করে আমার স্বাস্থ্যের বুঝ নিয়েছিলেন এবং চান মাহমুদ ও তাজ উদ্দিন সাহাব যে আমার সাথে দেখা করতে যাবে অগ্রিম খবর দিয়েছিলেন। অমর গগৈ লোকটি খুবই অমায়িক। তাঁর পরিবারও খুব অতিথি পরাষণ।
আমার গলার সাইডে টনসিল একটু ফোলা ছিলো, কেমো নেওয়ার পর তা একেবারে কমে গেলো। কেমো নেওয়ার পর আমার ধারণা হলো, রোগ যা একটু ছিলো তা মনে হয় নিরাময় হয়েছে। সেদিন রুমে এসে ঠিকমতো ছাতু খেলাম সবরি কলা দিয়ে। এর পরের দিন রবিবার। রুমে শোয়েবসে কাটালাম। সমবার অর্থাৎ ৩ জুন থেকে আবার রেডিয়েশ্বন নিতে লাগলাম। দুই তিনদিন রেডিয়েশ্বন নেওয়ার পর থেকে মুখ শুকিয়ে উঠতে লাগলো। খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে একটু অসুবিধা হতে লাগলো।আমার তেমন গ্যাস্ট্রিকের অসুবিধা ছিল না। কেমো নেওয়ার পর থেকে গ্যাস্ট্রিক দেখা দিলো। বুক জ্বালাপোরা করে। সেজন্য ছোট ছেলে রাহুলকে খবর পাঠালাম কাঁচা পেপে নিয়ে আসতে। আগে পাছে গ্যাস্ট্রিকের ট্রাবল হলে কাঁচা পেপে খেয়েই গ্যাস্ট্রিক সারাতাম। ওষুধপাতি তেমন ব্যবহার করতাম না। তাই রাহুলকে কাঁচা পেপে আনতে বলেছিলাম।
রাহুল কাঁচা পেপে আনার পর ঠিকমতো কাঁচা পেপে খেলাম। গ্যাস্ট্রিকের ট্রাবল একটু কমল। তবে অন্য অসুবিধা দেখা দিলো। মুখে ঘাঁ দেখা গিলো। খাওয়া-দাওয়ায় অসুবিধা হলো। গোটা জিনিস তো দূরের কথা লিকুইড জিনিসও খেতে অসুবিধা হলো।কষ্টেমষ্টে ৩ জুন থেকে ৭ জুন পর্যন্ত রেডিয়েশ্বন নিলাম।তবে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া না করার জন্য স্বাস্থ্যের খুব অবনতি হলো।
প্ৰত্যেক শুক্ৰবার রেডিয়েশ্বন ও কেমো ডাক্তারের নিকট ফাইল জমা দিতে হয়। ৭ জুন রে়ডিয়েশ্বন নেওয়ার পর প্রথমে রেডিয়েশ্বন ডাক্তারের কাছে ফাইল জমা দিলাম। রেডিয়েশ্বন ডাক্তার রেডিয়েশ্বন চালিয়ে যাওয়ার জন্য লিখে দিলেন। রেডিয়েশ্বন ডাক্তারের নিকট থেকে ফাইল এনে কেমো ডাক্তারের নিকট জমা দিলাম। কেমো ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা করতে দিলেন। পরীক্ষা করার জন্য রক্ত দিলাম। ৪ ঘণ্টা পর রক্তের রিপোর্ট এলো। রক্তের রিপোর্ট দেখে ডাক্তার কেমোর জন্য লিখে দিলেন। আবার শনিবারে কেমো নিলাম। রবিবার অনুষ্ঠান বন্ধ ছিলো।
১০ জুন সমবার থেকে ১২ জুন পর্যন্ত আবার রেডিয়েশ্বন নিলাম। এর মধ্যে আমার মুখে প্রচণ্ডভাবে ঘাঁ দেখা দিলো। ফলে খাওয়াদাওয়া করতে খুব অসুবিধা হলো।এমনকি পাইনা(লিকুইড) বস্তুও গিলা যাচ্ছে না। বলতে গেলে একপ্রকার না খেয়েই দিন কাটাতে হচ্ছে। কোনমতে রেডিয়েশ্বন নিচ্ছি। আগেই বলেছি আমাদের প্রত্যেক শুক্রবারে রেডিয়েশ্বন এবং কেমোর ডাক্তারের কাছে ফাইল জমা দিতে হয়। কিন্তু খাওয়া-দাওয়ার অসুবিধার জন্য ১৩ জুন বৃহ্স্পতিবারে রেডিয়েশ্বন নিয়ে আমার অসুবিধার কথা জানানোর জন্য রেডিয়েশ্বন ডাক্তারের কাছে ফাইল জমা দিলাম। কিছুক্ষণ পরে আমার ডাক পড়লো। ডাক্তারের নিকটে গিয়ে আমার অসুবিধার কথা জানালাম। ডাক্তার বললেন- খাওয়াদাওয়া করতে না পারলে অসুবিধা হবে। বেশি দুর্বল হলে রেডিয়েশ্বন বন্ধ রাখার বাইরে গত্যন্তর থাকবে না।রেডিয়েশ্বন বন্ধ রাখলে অসুবিধা হবে। প্রয়োজনে পাইপ দিয়ে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
সেদিন আমার সাথে ছিলো আমার পরিবার তারাবানু। তাই সেদিন পাইপ লাগানো হলো না। শুক্রবার সোলেমান কবীর যাওযার কথা ছিলো। ভাবলাম, কবীরের সাথে আলোচনা করে পাইপ লাগাবো। সেদিন রুমে চলে এলাম। ১৪ জুন সকালে সোলেমান কবীর রুমে এলো। সেদিন সকালে গিয়েই কেমোর ডাক্তারের নিকট ফাইল জমা দিলাম। কেমোর ডাক্তার রক্ত পরীক্ষার জন্য লিখে দিলেন। রক্ত পরীক্ষা করতে দিয়ে বিকেল দুটোয় রেডিয়েশ্বন নিলাম।রেডিয়েশ্বন নেওয়ার পর রেডিয়েশ্বন ডাক্তারের নিকট ফাইল জমা দিলাম। কিন্তু কোন কারণে রেডিয়েশ্বন ডাক্তার চেম্বারে ছিল না। তাই ফাইল এনে কেমোর ডাক্তারের কাছে জমা দিলাম। কেমোর ডাক্তার আমার রক্তের রিপোর্ট দেখে বললেন- রক্তের মধ্যে ডাস্ট জমেছে। তাই কেমো প্রদান করা সম্ভব হবে না।
ডাক্তার এভাবে বলে প্রচুর জল খাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে বিদায় দিলেন।
নাকে পাইপ ও হসপিটালের বেডে ভর্তি- এর পর রেডিয়েশ্বন ডাক্তারের কাছে গেলাম। রেডিয়েশ্বন ডাক্তার আমার অবস্থা দেখে রেডিয়েশ্বন বন্ধ রেখে পাইপ লাগানোর জন্য লিখে দিলেন। তখন অনুষ্ঠান বন্ধ হতে খুব দেরি নেই। তাই আমরা তাড়াতাড়ি এসে নাকে পাইপ লাগালাম। অর্থাৎ সেদিন থেকে আমার মুখ দিয়ে খাওয়া বন্ধ হলো। সেদিন থেকে পাইপ দিয়ে খেতে লাগলাম। আমি ১৪ জুন থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পাইপের দ্বারা খেয়েছি। পাইপ দিয়ে খায়ার সময় কোনো কোনো দিন আমার একটি কথা মনে পড়ত। কথাটা একটু বুঝিয়ে বলি। অনেকদিন আগে আমাদের একটি গুজরাটী মহিষ ছিলো। মহিষটি দোহনীয় ছিলো। মহিষটি খড় ও তুষজল তেমন ভালোভাবে খেতে চাইত না। এদিকে ঠিকমতো নাখেলে দুধ কম হয়। তাই আমি জলের সাথে মিহি তুষ ঘোলে একটি চুঙা দিয়ে মহিষের মুখে বলপূর্বক ঢেলে দিতাম। তখন মহিষটি খেতে বাধ্য হতো। তবে তখন মহিষটি খুবই নীরিহভাবে আমার দিকে তাকিয়ে থাকত। (তখন আমার মনে হতো মহিষটি যেন পারলে আমাকে তুষজলের সাথে চিবিয়ে খাবে।) আমাকে পাইপ দিয়ে খাওয়ানোর আমিও মহিষের মতো নীরিহভাবে আমার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকতাম।তখন আমার মনে হতো মহিষটিকে জোর জবরধ্বস্তি খাওয়ানোর জন্যই হয়তো আমার কেন্সার হয়েছে এবং আমায় মহিষের মতো খেতে হচ্ছে।
১৬ জুন রবিবার এবং ১৭ জুন সমবার বকরীদ। সোলেমান কবীর রবিবার সকালে বাড়ি চেলে এলেন। বকরীদের দিন রাতে আমার প্রচণ্ড জ্বর এলো। রাহুলকে খবর দেওয়া হলো। খবর পেয়ে রাহুল ভাড়ারুমে গেলো। এদিকে বাড়ির সাথেও যোগযোগ করা হলো। সকাল আটটায শাহজাহানও ভাড়ারুমে গেলো। সেখান থেকে সকাল নটায় আমাকে হসপিটালে নিয়ে গেলো। ডাক্তার আমার অবস্থা দেখে হসপিটালে ভর্তি (এডমিট) করলেন। সেদিন ছিলো ১৮ জুন এবং সময় ছিলো ১১-৩০ মিনিট। আমার বেড নম্বর ছিলো ৯০৬.
ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসা চললো। ধারাবাহিক চিকিৎসা। একটার পর একটা সেলাইন ও ইনজেকশ্বন। ২৩ জুন কিছু সুস্থ হয়ে উঠলাম। ২৪ জুন আবার রেডিয়েশ্বন দিলো। ২৫ জুন সকাল বেলা আমাদের হসপিটাল থেকে রিলিজ দিলো। সেদিন একেবারে দুটো বাজায় রেড়িয়েশ্বন নিয়ে রুমে এলাম। তারপর ২৮ তারিখ শুক্রবার পর্যন্ত রেডিয়েশ্বন নেওয়ার পর ২৯ তারিখ শনিবারে আবার একটা কেমো নিলাম। ইতিমধ্যে আমার ২৩ টা রেডিয়েশ্বন নেওয়া হয়ে গেলো।কেমো হলো ৩ টা। আবার ১ জুলাই থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত ৫ টা রেডিয়েশ্বন নিলাম। ৬ জুন শনিবার এবং ৭ জুন রবিবার। তাই অনুষ্ঠান বন্ধ ছিলো। ৮ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত আবার ৫ টা রেডিয়েশ্বন নিলাম এবং ১৩ জুলাই একটা কেমো নিলাম। সেদিন কেমো নেওয়ার সময় একটু অসুবিধা হলো। কেমো রাত নটা পর্যন্ত প্রদান করা হয়।রাত নটার পর কোন কেমো প্রদান করা হয় না। কেমো সম্পূর্ণ না হলে পরের দিন সকালে আবার প্রদান করা হয়। এর জন্য নতুন করে ওষুধ কিনতে বা সিট ভাড়া দিতে হয় না।
রাত নটা পর্যন্ত কেমো চলার পরেও আমাদের কেমো শেষ হলোনা। একটা সেলাইন রয়ে গেলো।একটা সেলাইন সকাল পাঁচটায় দেওয়া হবে বলে নাৰ্স আমাদের বলে পাঠালেন। সেদিন আমার সাথে ছিলো আমার বড় ছেলে সোহরাব আলী আহমেদ। নার্স বলে পাঠালেন যে, ওষুধ কিনার দর্কার নেই। ওষুধ হসপিটালেই জমা রয়েছে।আমরা সেদিনকার মতো রুমে চলে এলাম।
পরের দিন ভোরে সোহরাব আলী বাড়ি চলে গেলো। কারণ তাঁর ধুবরীতে জরুরি মিটিং ছিলো। সে ধুবরী জেলায় সিআরসিসি পদে কর্মরত ছিলো।
পরের দিন সকাল বেলা মেজো ছেলের বউ লাকীয়ারা বেগমকে নিয়ে আমি হসপিটালে এলাম। কিন্তু হসপিটালে গিয়ে দেখি আমাদের ওষুধ মজুত নাই। হসপিটাল কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হলো, ওষুধ কিনতে হবে এবং সিট ভাড়াও নতুন করে জমা দিতে হবে। তাই সেখানে কিছু তর্কবিতর্ক হলো। তখন আমি আগের দিন যে নার্স আমাকে কেমো দিয়েছিলো সেই নার্সকে খোঁজে বের করে তাঁকে ডেকে নিয়ে এলাম। নার্স যখন বললো- আমি কাল ওষুধ রেখে গেছি সেই ওষুধ কোথায় গেলো?
যে ছেলেটি সেখানে কর্মরত ছিলো তখন সে আমতা আমতা করতে লাগলো। তখন নার্স বললো- আমতা আমতা করলে চলবেনা। ওষুধের ব্যবস্থা কর।
তখন ছেলেটি বললো- ঠিক আছে, আমি ওষুধের ব্যবস্থা করতেছি। আসুন আমার সাথে।
ছেলেটির পেছন পেছন আমরা অন্য একটা রুমে গেলাম। ছেলেটি সেখানে কর্মরত নার্সের সাথে আলোচনা করে বললেন- এখানে আপনাকে সেলাইন প্রদান করা হবে। আপনারা থাকুন। আমি আমার কাজে যাচ্ছি।
ছেলেটি চলে গেলো। আমরা সেখানে অপেক্ষা করতে লাগলাম। আধাঘণ্টা অপেক্ষার পর একজন নার্স এসে বললেন- যান, সেলাইন নিয়ে আসুন। আপনার বেড রেডি।তাড়াতাড়ি সেলাইন নিয়ে আসুন।
আমি বললাম- আমাদের সেলাইনতো হসপিটালেই জমা রয়েছে। আবার সেলাইন কিনতে হবে কেন?
নার্স বললো- আপানাদের জন্য বেড ফ্রী করা হয়েছে। সেলাইন কিনতেই হবে।
নার্সের সাথে তর্ক না করে আমি সরাসরি কেমো ডাক্তারের কাছে গিয়ে কথাটা বললাম। তখন কেমোর ডাক্তার বললেন, সেলাইন না নিলে অবশ্যে অসুবিধা হবে না। নিলে অবশ্যে ভালো হতো। আপনি ইচ্ছে করলে অন্য কাউকে দিয়েও সেলাইন নিতে পারবেন।
ডাক্তার যখন বললেন, সেলাইন না নিলেও অসুবিধা হবে না, তখন সেলাইন না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা রুমে চলে এলাম।
আমার সেদিনের সেই ঘটনার জন্য অন্যান্য রোগীদের অবশ্যে একটা লাভ হয়েছে। আগে কেমো শেষ না হলে পরের দিন সেই কেমো প্রদান করা হতো। এই ঘটনার পর থেকে কেমো শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেলাইন চালিয়ে(রাত যতই হোক) সেদিনই কেমো শেষ করে দিতে হবে বলে হসপিটাল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরের দিনের জন্য সেলাইন রাখা যাবে না। পরের বার কেমো নিতে গিয়ে তার প্রমাণও আমি পেয়েছি। একজন নার্স আমাকে কথাটা বলেছে। নার্সটির সাথে আমার পরিচয় ছিলো। কারণ সেই নার্সই আমাকে প্রথম দিন ও সেলাইন নিয়ে ঝামেলা হওয়ার দিন কেমো দিয়েছিলো। প্ৰায় প্রায়গুলো নাৰ্সই মণিপুরী।তাঁদের চিহ্নিত করে রাখাটা আমাদের জন্য কঠিন ছিলো। কিন্তু আমাকে যে নার্সটি সেলাইন দিয়েছিলো তাঁর বামহাতে সুতা বাঁধা ছিলো। তাই তাঁকে চিনতে অসুবিধা হয়নি। ১২ জুলাই পর্যন্ত রেডিয়েশ্বন নেওয়া হলো ৩৩ টা। ১৩ জুলাই শনিবার ও ১৪ জুলাই রবিবার ছিলো, তাই রেডিয়েশ্বন বন্ধ ছিলো। ১৫ জুলাই ও ১৬ জুলাই দুটি ভাম্পার ডজ রেডিয়েশ্বন দিলেন। আমার তখন কিছু সর্দি লেগেছিলো। তাই রেডিয়েশ্বন নিতে খুব কষ্ট পেলাম। শেষের দিনতো আমার মাক্স কফ(শ্লেষ্মা) দিয়ে ভরে গিয়েছিলো। বাইরে বেরিয়ে এসে ভালো করে মুখটা ধুয়ে নিতে হয়েছিলো। শেষের দিন রেডিয়েশ্বন নেওয়ার সময় আমার সাথে ছিলো সাহজাহানের স্ত্রী আমার সেজ বউ লাকীয়ারা বেগম।
শেষের দিন নটার আগেই আমাকে রেডিয়েশ্বন প্রদান করা হয়েছিলো। ইতিমধ্যে সেজো ছেলে সোলেমান কবীর বাড়ি থেকে গিয়ে হসপিটালে পৌঁছেছিলো। তাই সোলেমানকে নিয়ে রেডিয়েশ্বন ডাক্তারের কাছে গেলাম। ডাক্তার আমাকে দেখে ৬ সপ্তাহ পর ফলোআপে যাওযার জন্য লিখে দিলেন এবং বললেন-ইচ্ছে করলে আজই আপনারা বাড়ি যেতে পারবেন।
মুম্বাই থেকে আমার জন্য কেমো লিখে দিয়েছিলেন ছটা। ইতিমধ্যে আমার চারটে কেমো নেওয়া হয়েছিলো। তাই আমি বললাম- আজ যাওয়া সম্ভব হবে না। মুম্বাই থেকে ছটা কেমো লিখে দিয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত মাত্র চারটে কেমো নিয়েছি। আমাকে আরও দুটা কেমো নিতে হবে।
তখন রেডিয়েশ্বন ডাক্তার আমার ফাইল দেখে বললেন- আপনাকে আর কেমো নিতে হবে না। আপনার চিকিৎসা যথেষ্ট হয়েছে। বাকী দুটো কেমো না নিলেও হবে। আজ কেমোর কেমোর ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।বাড়ি চলে যান।
রেডিয়েশ্বন ডাক্তারের চেম্বার থেকে বেরিয়ে এসে রেডিয়েশ্বন ডাক্তারের মানা সত্ত্বেও সোলেমানের সাথে পরামর্শ করে আমরা কেমোর ডাক্তারের কাছে গেলাম। রেডিয়েশ্বন ডাক্তার বলা কথাটুকুই আমরা কেমোর ডাক্তারকে বললাম। তখন কেমোর ডাক্তার বললেন- ছটা না নিলেন। অন্তত আর একটি কেমো নিয়ে নেন। নিলে ভালো হবে।
ডাক্তারের পরামর্শ মতো ১৭ জুলাই বুধবার আবার একটা কেমো নিলাম। কেমোর ২৪ ঘণ্টা পর একটা ইনজেকশ্বন নেওয়ার ছিলো।১৮ জুলাই রাত নটায় সেই ইনজেকশ্বনটা নিলাম। ১৯ তারিখ ভোর ৫ টায় শঙ্করদেব লজ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ি চলে এলাম।
শুভাকাংক্ষীদের আশীর্বাদ তথা শুভেচ্ছা –

সাংবাদিক সাহেদ আলী আরু মই
বাড়ি এসে দেখি বাড়ির সামনে কয়েকজন নারী-পুরুষ ভির করে রয়েছে। অন্য কেউ না পাড়াপ্রতিবেশীরা। সেই ভিরের মাঝে আমার সেজ ছেলে সাহজহানের শশুড় রহমত আলী ছিলেন অন্যতম। তখন আমার অবস্থা খুবই কাহিল ছিলো।রহমত আলীই আমাকে মারুতি থেকে ধরে নামিয়ে বাড়ির ভেতর নিয়ে এলেন। আমরা গুয়াহাটী থেকে মনে হয় পাঁচটা বাজায় রওয়ানা হযে ছিলাম, বাড়ি এসে পৌঁছেছিলাম ৭ টা বাজায়। আমাকে এনে বারান্দায় চেয়ারে বসালেন। সকাল বেলা হলেও খুবই গরম ছিলো সেদিন। টেবুল ফ্যান এনে বাতাস করতে লাগলেন। কিছু সময় পর কয়েকজন ধরে আমাকে আমার শয়ন রুমের ভেতর নিয়ে এলেন। আমি তখন তন্দ্রার ঘোরে। শুধু লোকের উপস্থিতি অনুভব করতে পারছি।কে কে এসেছে, কে কি বলছে, তেমন কিছু বলতে পারব না।
এর পরের ঘটনাগুলো গতানুগতিক। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীরা নিয়মিতভাবে আমার স্বাস্থ্যের বুঝ নিতে আসছে। বাড়িতে উৎসবের মতো লেগে আছে। কাছে থেকে যারা আসছে তাদের চা-পানী দিলেই হয়। দূর থেকে যারা আসছে তাদের জন্য ভাত-পানীর ব্যবস্থা করতে হয়। বাড়ির লোকেরা খুবই নিষ্ঠাসহকারে কাজগুলো করে গেছে।আমাকে দেখতে আসা লোকগুলোর মাঝে এমন কিছু লোক ছিলো, যাদের আমি বা আমরা কোনদিনই খবর নেইনি বা আমাদের কাছে তারা তেমন গুরুত্ব পায়নি। এতো হলো আত্মীয়স্বজেনর কথা। যারা আত্মীয় না, আমার শুভাকাংক্ষী, তাদের সংখ্যাও মন্দ না।

ডান দিক থেকে সাহেদ আলী, মাণিকলাল ভৌমিক আরু মই
শুভাকাংক্ষীদের মাঝে প্রথমে যারা গুয়াহাটীতে ভাড়ারুমে গিয়ে স্বাস্থ্যের বুঝ নিয়েছিলো প্রথমে তাঁদের কথা বলি। তাঁদের মাঝে প্রথমেই নাম নিতে হয় মাণিক লাল ভৌমিক এবং সাহেদ আলী আহমেদের। এরা গুয়াহাটীতে থাকতে ভাড়ারুমে গিয়ে আমার স্বাস্থ্যের বুঝ নিয়েছিলেন। মাণিক লাল ভৌমিক স্টেট ব্যাংকের ম্যানেজার ছিলেন। এখন অবসর নিয়েছে। সাহিত্য-সংস্কৃতির সাথে জড়িত। আন্তরাষ্ট্রীয় সাহিত্য সংগঠন কিঞ্চিত গোষ্ঠীর মুখ্য সম্পাদক। সাহেদ আলী আহমেদ সংবাদ সেবা ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান-প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত। গুয়াহাটীতে আমার স্বাস্থ্যের বুঝ নিতে গিয়েছিলেন জনীয়া গ্রামোন্নয়ন পরিষদের সম্পাদক আব্দুল মালিক আহমেদ। তার সাথে ছিলো মহম্মদ আলী ও রুহুল আমীন।এরা আমার সাথে সাক্ষাত করে আমাকে নানা প্রকারে সাহস যোগিয়াছেন।
আমার বাল্যকালের বন্ধু সাকায়েত হোসেন ও আমাদের যতিগাঁয়ের দাঁতের ডাক্তর আক্কাস আলী আমাদের ভাড়ারুমে গিয়ে আমার স্বাস্থ্যের বুঝ নিয়েছেন। আমার ছাত্র ফজল হকের ছেলে মুক্তার আলী ও দিদার আলী মুন্সীর ছেলে নাসির উদ্দিন আমাদের ভাড়ারুমে আমার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলো। আমরা রাণীরপামে বসতি করার সময় আমাদের পার্শ্ববর্তী বাড়ির আয়নাল হক, ময়নাল এবং আনোয়ার হোসেন আমার স্বাস্থ্যের বুঝ নিতে গিয়েছিলো। আয়নাল এবং ময়নাল দুই সহোদর ভাই। আনোয়ার আমার সম্পর্কীয় ভাগ্নে। ময়নাল হক আমাকে ১২ টি আ্ন্ডাও কিনে দিয়েছিলো। আমি বাড়ি আসার পরেও ময়নাল আমার সাথে দেখা করে স্বাস্থ্যের বুঝ নিয়েছে। ভ্রাতৃপ্রতীম মজিবর রহমান দুইদিন গুয়াহাটীতে গিয়ে আমার স্বাস্থ্যের বুঝ নিয়েছে। মজিবর রহমান আমার ছোটভাই হোসেন আলীর দোস্ত।চানমাহমুদ এবং তাজউদ্দিন আহমেদ গুয়াহাটীতে গিয়ে আমার স্থাস্থ্যের বুঝ নিয়েছে। চান মাহমুদ এবং তাজউদ্দিন আমি বাড়ি আসার পরও দুইদিন এসে আমার স্বাস্থ্যের বুঝ নিয়েছে।
আমাদের আত্মীয়ের মাঝে আমার শ্যালক হাসর আলী, ভাগ্নে গোলাপ হোসেন, আমার সমুন্দি প্রয়াত হোসেন আলীর ছেলে সাহাদুল ইসলাম গুয়াহাটীতে গিয়ে আমার স্বাস্থ্যের বুঝ নিয়েছে। আমার মামাত বোন রুকিয়া বেগম, মামাত ভাই আব্দুল বাছেদ, মামাত বোন সিরিয়া বেগম এবং বাছেদ আলীর স্ত্রী সূর্যবানু গুয়াহাটীতে গিয়ে আমার স্বাস্থ্যের বুঝ নিয়েছে। আমার ভাগ্নে জিন্নত আলী গুয়াহাটীতে আমাদের ভাড়ারুমে গিয়ে আমার স্বাস্থের বুজ নিয়েছে। আমি বাড়ি আসার পরেও জিন্নত আলী আমাদের বাড়ি এসে আমার স্বাস্থ্যের বুঝ নিয়েছে। আমার বড় ছেলে সোহরাব আলী আহমেদের শ্যালক ইমরান হোসেন এবং ইমরানের স্ত্রী গুয়াহাটীতে আমাদের ভাড়ারুমে গিয়ে আমার স্বাস্থ্যের বুজ নিয়েছে। আমার মেয়ে আবিদা পারবীন, শাহিদা খাতুন,ছোট মেয়ে খালিদা পারবীন, ছোট মেয়ের জামাই এডভোকেট আব্দুর রহমান আমি গুয়াহাটীতে হসপিটালে ভর্তি থাকা অবস্থায় আমার বেডে গিয়ে আমার স্বাস্থ্যের বুঝ নিয়েছে। হসপিটালে ভর্তি থাকা অবস্থায় বড় মেয়ে আমীনা খাতুনও আমার স্বাস্থ্যের বুঝ নিয়েছে।গুয়াহাটীতে চিকিৎসারত থাকা অবস্থায় আমার ছোট ভাই শামসুল হক ও তাঁর স্ত্রী আবিদা বেগম, ছোট বোন খোদেজা খাতুন এবং বোনের জামাই ওয়াজ আলী গুয়াহাটীতে আমার ভাড়ারুমে গিয়ে আমার খোঁজখবর নিয়েছে।বাড়ি আসার পরও খোদেজা খাতুন এবং বোনের জামাই ওয়াজ আলী কয়েকবার আমাদের বাড়ি এসে আমার স্বাস্থ্যের বুঝ নিয়েছে। মামাত ভাই মাজিদুল ইসলাম এবং ভেড়াগাঁয়ের জয়নাল আবদিন গুয়াহাটীতে আমাদের ভাড়ারুমে গিয়ে আমার স্বাস্থ্যের বুঝ নিয়েছে।
রেডিয়েশ্বন শেষ করে আমি ১৮ জুলাই বাড়ি আসার পর গ্রামের অনেক লোক আমাদের বাড়ি এসে খোঁজখবর নিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ভাগ্নী জামাই নবুর উদ্দিন, বাদশাহ মিয়া, সজিমুদদ্দিন, সজিমুদ্দিনের পরিয়ালবর্গ, আক্কাছ আলী(দাঁতের ডাক্তার), উবায়দুল্লাহ, উবায়দুল্লাহর মাতৃ, দানেশ আলীর স্ত্রী(শুকুর আলীর মাতৃ),সাহজাহানের শশুর বাড়ির সমস্ত লোক, মেজো মেয়ে আবিদার শাশুড়ী, শ্যালক হাসর আলী ও তার পরিবারের লোক, হাসমত আলী ও তাঁর পরিবারের সমস্ত লোক, প্ৰয়াত সিদ্দিক আলী মুন্সির স্ত্ৰী জয়তন নেসা এবং তাঁর মেয়ে মনোয়ারা খাতুন আমাদের বাড়ি এসে আমার খোঁজখবর নিয়েছে। মনোয়ারার স্বামী ফুলচান আলী আমার স্বাস্থ্যের বুজ নিয়েছে। আমার ছোট ভাই হোসেন আলীর চাচা শশুড় আবুল কাশেম ও তাঁর পরিবারের সমস্ত লোক মাঝেমধ্যে এসে আমার খোঁজখবর নিয়েছে। আমার খালাত বোন সাহেরা খাতুন মাঝেমধ্যে এসে আমার খোঁজখবর নিয়েছে। আমাদের মামাত বোন সাজেদা খাতুন ও রাশিদা খাতুন আমাদের বাড়ি এসে খোঁজখবর নিয়েছে।সাজেদা কয়েকবার এসেছে আমার স্বাস্থ্যের বুঝ নেওয়ার জন্য। সোহরাব আলীর শাশুড়ী, সোহরাব আলীর বড় শ্যালকের স্ত্রী এসে আমার খোঁজখবর নিয়েছে। রূপাকুছির আমার দোস্ত ছবুর উদ্দিনের বড় ছেলে মোশারফ, ভাগিন বদরুদ্দিন আমাদের বাড়ি এসে আমার খোঁজখবর নিয়েছে। রাণীর পামের ময়নালের মাতৃ, বড় ভ্রাতার বউ, গোবিন্দপুরের নিজামুদদ্দিনের মাতৃ(আমাদের খালা), খালার ছেলের বউ আমাদের বাড়ি এসে আমার খোঁজখবর নিয়েছে।
আমাদের চাচী, চাচাতো ভাই, চাচাত বোনরা সবাই এসে আমার খোঁজখবর নিয়েছে। আমার শালী জ্যোৎস্না বানু ও তার স্বামী আমার খোঁজখবর নিয়ছে। ভাগ্নী নুরজাহান দুইদিন আমাদের বাড়ি এসে আমার খোজখবর নিয়েছে। বাহার উদ্দিন তালুকদার ও ছলিমুদ্দিনের পরিষালের সবাই এসে আমার খোঁজখবর নিয়েছে। ভাগ্নে গোলাপ হোসেন এবং তাঁর মাতৃ আমার খালাত বোন হাজেরা খাতুন মাঝে মাঝে এসে আমার খোঁজখবর নিয়েছে।আমার সমুন্দি হোসেন আলীর স্ত্রী এবং তাঁর ছেলের বউরা এসে আমার খোঁজখবর নিয়েছে। ভক্তেরডোবা কলেজের অধ্যাপক আব্দুল হাই, আমাদের ভাতিজা অধ্যাপক ছানোয়ার আল হাছান এবং অন্য একজন অধ্যাপক এসে আমার খোঁজখবর নিয়েছে। ভাইঝি হাসেনা বানু ও তার স্বামী, ছোট ছেলে রাহুলের শশুড়-শাশুড়ী, আমার শ্যালক আব্দুল কাদের, ছত্তর আলী এবং তাঁদের পরিবার, ছেলেপিলে সবাই এসে আমার খোঁজখবর নিয়েছে। আমার শ্যালক কাদেরের মেয়ের জামাই এবং মেয়ে কুলছুম এসে আমার খোঁজখবর নিয়েছে। চাচাত বোন সালেহা এবং বোনের জামাই আবু বক্কার ও তাঁদের মেয়ে মিনু মোল্লাহ এসে আমার খোঁজখবর নিয়েছে।আমার বাঘবরের ভায়রা মোন্নাফ আলীর স্ত্রী ময়ফল নেসা আমাদের বাড়ি এসে আমার স্বাস্থ্যের বুঝ নিয়েছে। তাঁরা কিছু কিনে খাওয়ার জন্য আমাকে কিছু টাকাও দিয়ে গিয়েছিলো। চাচাত বোন সোনাবানু ও বোন জামাই রুস্তম আলী এসে আমার খোঁজখবর নিয়েছে। ভাগ্নী রুমানা পারবীন এবং তাঁর জামাই এসে আমার খোঁজ খবর নিয়েছে। আমার চাচাত বোন মহেলা খাতুন সুদূর কৃষ্ণাই থেকে এসে আমার খোঁজখবর নিয়েছে। এডভোকেট জামাল উদ্দিন, জামাল উদ্দিনের ভ্রাতা আমির আলী ও তাঁদের পিতৃ আমার স্বাস্থের বুঝ নিয়েছে। মিলিজুলির সফিকুল ইসলাম এবং তার বোন সোনাবানু ও সামচুন নেহার এসে আমার স্বাস্থ্যের বুঝ নিয়েছে। এরা সবাই আমার ছাত্র।
মিলিজুলির আকবর আলী এবং নাগর আলী আমাদের বাড়ি এসে আমার স্বাস্থ্যের বুঝ নিয়েছে। আকবর আলী ছাগলের বেপারের সাথে জড়িত এবং সে দুইদিন আমাদের বাড়িতে এসেছে। আকবর আলী চিরকুমার। নাগর আলী আকবরের ভাইপো ও আজগর আলীর ছেলে। আমার বাল্যকালের বন্ধু সহপাঠী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ভেড়াগাঁয়ের আনোয়ার হোসেন আমার স্বাস্থের বুঝ নিয়েছে। বাঘবরের শুকুর আলী তিনবার আমাদের বাড়ি এসে আমার স্বাস্থ্যের বুঝ নিয়েছে।আমার ছোটভাই হোসেন আলী দুইবার গুয়াহাটী গিয়ে আমার স্বাস্থ্যের বুঝ নিয়েছে এবং পরে বাড়িতে এসেও মাঝে মাঝে আমার স্বাস্থ্যের বুঝ নিয়ে চলেছে। আমার মেজো মেয়ে সাহিদা খাতুন ও তাঁর স্বামী ও শাশুড়ী আমাদের বাড়ি এসে আমার খোঁজখবর নিয়েছে। মেয়ের মধ্যে সাহিদা খাতুনই আমার বেশি খোঁজখবর রেখে চলেছে। বড় মেয়ে আমিনা খাতুনও মাঝেমঝ্যে এসে আমার খোঁজখবর নিয়ে চলেছে। অনেকে ফোনেও খোঁজখবর নিয়েছে- তাঁদের মধ্যে ডিআই অফিসের অবসরী কর্মচারী সুশীল রঞ্জন চৌধুরী, বেতবারীর বন্ধুবর মজিবর রহমান, গরেমারী পাথারের নুরুল হক, সদৌ অসম অনুন্নত শ্রেণীর সভাপতি অমর গগৈ, বরপেটার মেটুয়াকুছির অবসরী শিক্ষক প্রদীপ বায়ন, ধুবুরী জেলার রঙামাটির মৌসুমি হোসেইন, জাহোরপামের অবসরী শিক্ষক আব্দুস সোভাহান, লারকুছির আক্রাম শিকদার, বরপেটারোডের গোপাল সাহা, রঙিয়ার বিষয় শিক্ষক কল্পনা দাস, জামুগুরি হাটের পুণ্ডরীকাক্ষ বরুয়া অন্যতম।
বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাংখীদের মাঝে নুর হোসেন, বিশ্ববন্ধু দেওয়ান(শফিকুল ইসলাম), আলী আকবর হাশিমী, নুরুল ইসলাম তালুকদার, আমার বরভিটার মিত্র আবুল হোসেনের পরিয়াল এসে আমার খোঁজখবর নিয়েছে। জাহোরপাম হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান, দাবালিয়া পারা হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞান শিক্ষক তালেবর রহমান আমাদের এসে আমার খোঁজখবর নিয়েছে।কুমুল্লিপাড়ার আব্দুল মোতালেব ও তাঁর ছেলে আমাদের বাড়ি এসে আমার খোঁজখবর নিয়েছে। এরকম অনেকেই এসেছে স্মৃতিয়ে প্রতাড়ণা করার জন্য হয়তো সবার নাম লিপিবদ্ধ করা সম্ভব হল না।তারজন্য আমি দুঃখিত। কিছুদিন আগে আমাদের পাড়ারই একটি ছেলে কথা প্রসংগে বলেছে, প্রায় একমাস যাবত আপনাদের বাড়িতে যেন উৎসব চলছে, এরকম ধারণা হয়েছে আপনাদের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়।
সর্বশেষে শঙ্করদেব লজের কথা না বললেই নয়। লজটা বি, বরুয়া ক্যান্সার হাস্পতাল থেকে খুবই নিকটে। আমি ৩৫ টা রেডিয়েশ্বন এবং ৫ টা কেমো নেওয়ার জন্য ৫৮ দিন শঙ্করদেব লজে ছিলাম।লজের মালিক শঙ্কর দেবনাথ খুবই মানবিক লোক। তাঁর বয়েস খুব বেশি নয়, যদিও রোগীর প্রতি তাঁর ব্যবহার খুবই আন্তরিকতাপূর্ণ। তাঁকে আমার তরপ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
উপসংসার- গুয়াহাটী থেকে আসার সময় ডাক্তার ৬ সপ্তাহ পর চেকআপে যেতে বলছিলেন। গত ২৯ আগস্ট আমি প্ৰথম চেকআপে যাওয়ার সময় ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখে রোগ নাই বলে সমিধান দিয়েছেন। ৬ সপ্তাহ পর আবার চেকআপে যেতে বলছিলেন। গত ২২ অক্টোবর আমি দ্বিতীয়বারের জন্য আমি চেকআপে গিয়েছিলাম। তখন ডাক্তার এডুছকপি করে রোগ নাই বলে সমিধান দিয়েছেন। আবার দুই মাস পর চেকআপে য়েতে বলেছেন।
আমার নিজেরও ধারণা আমার রোগ নাই। তবে রেডিয়েশ্বনের পার্শ্বক্রিয়ার জন্য মুখে যে ঘাঁ হয়েছে, সেই ঘাঁ এখনও আছে। ভাত খেতে পারি না, লিকুইড খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। মুখে মোটেই স্বাদ নেই। মুখ সবসময় শুকিয়ে থাকে। ঠিকমতে খাওয়া-দাওয়া না করার জন্য শরীর দুর্বল। ডাক্তার বলা মতে এইসব ঠিক হতে আরও ছমাস লাগবে। আমার সাথে ধুবুরীর গৌরীপুরের আব্দুল মোতালেব রেডিয়েশ্বন এবং কেমো নিয়েছে। জিভায় কামোর লেগে ক্ষত হয়ে তাঁর কেন্সার হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থাও ঠিক আমারই মতো। ফোনে তাঁর সাথে মাঝেসময়ে ভাব বিনিময় করি। মোতালেবের তথ্যমতে আমরা একসাথে চারজন মুম্বাই চিকিৎসা গ্রহণ করতে গিয়েছিলাম, তাঁদের মধ্যে বর্তমান আমরা সবাই এখন রোগমুক্ত হয়েছি।
আমার চার ছেলে। সোহরাব আলী আহমেদ, সোলেমান কবীর, সাহজাহান আলী আহমেদ ও রাহুল আমীন। এরা আমার চিকিৎসার ক্ষেত্রে টাকা পয়সা ও কায়িক শ্রম দিয়ে খুবই সহযোগ করেছে। ছেলের বউরাও আমাকে নিজের সন্তানের মতো আদর যত্ন করেছে। তাদের সবার প্রতি আমার স্নেহাশীষ রইল।
ক্যান্সারের চিকিৎসা খুবই কষ্ট সাধ্য।যাদের হয়েছে শুধু তারাই বলতে পারবে কি রকম কষ্টসাধ্য এই চিকিৎসা, অন্যে এ বিষযে অনুমান করা সম্ভব নয়। মুখে ঘাঁ উঠলে খাওয়াদাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।কোন গোটা জিনিস খাওয়া সম্ভব হয় না। খাওয়া-দাওয়ার অসুবিধার জন্য অনেক রোগী মারা যায়। তাই মুখে ঘাঁ হলে নাকে পাইপ লাগিয়ে খাওয়াই উত্তম।নাকে পাইপ লাগালে তেমন কোন অসুবিধা হয় না। মুখের ঘাঁ সারার জন্য ডাক্তার কোন ওষুধ দেন না। শুধু বেকিং সোডা ও মাউথ ওয়াশ ওষুধ দিয়ে কুলি করতে দেন। ডাক্তার যেগুলো উপাদান দিয়ে কুলি করতে দেন, তা যথাযথভাবে ব্যবহার করাই উচিত।ডাক্তারের উপদেশ মতো কুলি না করলে খুবই অসুবিধায় পরতে হয়,যেমুন আমি পরেছিলাম।
সময়মতো চিকিৎসা করালে রোগমুক্ত হওয়া সম্ভব। আমি নিজেই পেয়েছি। যেহেতু সময়মতো চিকিৎসা করালে রোগমুক্ত হওয়া সম্ভব, তাই রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে চিকিৎসা করানো উচিত।চিকিৎসা কষ্টসাধ্য হলেও খুব ব্যয়বহুল নয়।আয়ুষ্মান কার্ড থাকলে সরকার থেকেও সাহায্য পাওয়া যায়।যাতায়াতের জন্য রেলের টিকেট ফ্রী।
অঙ্কোলজিষ্ট ডাক্তাররা রোগীদের প্রতি খুবই সহানুভূতিশীল। এই প্রসঙ্গে ডাঃ অধ্যাপক তাসনীন রহমানের কথা উল্লেখ না করলে পাপে চুবে। ডঃ তাসনিন রহমানের আচরণ খুবই আন্তরিক ছিলো। বলতে গেলে, ডাক্তরা প্রায় সবাই আন্তরিকতাপূর্ণ। তবে আমি সকল ডাক্তারের নাম উল্লেখ করতে পারছি না, কারণ আমি তাঁদের নাম জানি না। আমি এর জন্য দুঃখিত। রিসেপশ্বনিষ্ট (অভ্যর্থনাকারী) সঙ্গীতা ভূঁইয়া এবং সুনিতা সিনহাও খুব আন্তরিক ছিলেন। নার্সরাও রোগীদের প্রতি আন্তরিকতাপূর্ণ এবং সহানুভূতিশীল। আমি গুয়াহাটিতে কোনও অসমীয়া বা মুসলিম নার্স দেখিনি। মণিপুরী নার্সের সংখ্যাই বেশি। তাদের আচরণ খুবই আন্তরিক এবং কর্তব্যের প্রতি খুবই সচেতন। আমাকে পাঁচটি কেমো থেরাপি প্রদান করা হয়েছিল। কাকতালীয়ভাবে, একজন মণিপুরী নার্সই আমাকে পাঁচটি কেমোথেরাপি প্রদান করেছিলেন। তাঁর আচরণ খুবই আন্তরিক ছিলেন। তবে, নাম না জানার কারণে এই বইয়ে তাঁর নাম উল্লেখ করা সম্ভব হলোনা। এর জন্য আমি দুঃখিত। ১২/২৫ জুন আমি চেকআপ যাওয়ার সময়, আমি তাঁর সন্ধান করার অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু তাঁকে আমি খুঁজে পাইনি। পরবর্তী পর্যায়ে আমি তাঁকে খুঁজে বের করে এই পুস্তিকায় তাঁর নাম লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা করব। আমাকে রেডিয়েশন প্রদান করা শচীন বর্মণের নাম এখানে উল্লেখ করাটা সমীচিন হবে। শচীন বর্মণের আচরণ খুবই আন্তরিক ছিলেন। শচীন বর্মণের বাড়ি নলবাড়িতে। আমাকে রেডিয়েশন প্রদান করার সময় বর্মণ আমাকে খুবই সাহস যোগিয়েছিলেন। দন্তচিকিৎসক ডাঃ মানস রাজখোয়াও খুবই আন্তরিক ছিলেন। তার আন্তরিক আচরণ আমার সারা জীবন মনে থাকবে। আমি সবসময় শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করতাম, যার ফলে আমার বেশ কয়েকটি দাঁত ক্ষয়ে গিয়েছিলো। অতএব, ১২ জুন, ২০২৫ তারিখে আমি ৭ নম্বর চেকআপের যাওয়ার সময় রেডিওলজিস্ট ডাঃ প্রফেসর তাসনিন রহমান আমার ক্ষয়প্রাপ্ত দাঁত দেখে ডেন্টিস্টের কাছে রেফার করেছিলেন।আমি দন্তচিকিৎসকের কাছে গেলে দন্তচিকিৎসক ডাঃ অবিনাশ কুমার আমার ক্ষয়প্রাপ্ত দাঁতগুলো দেখে খুব আন্তরিকতার সাথে সেগুলো ফিলআপ করে দিয়েছিলেন।
আমি এখন অসুস্থ যদিও সামগ্রিকভাবে ভালো। ডাক্তারদের সমিধান মতে, আমার মূল রোগ ভাল হয়ে গেছে।এখন শুধু সাইড এফেক্ট রয়েছে।আমি তিনবার চেকআপে গিয়েছি। প্রতিবারেই ডাক্তাররাঁ চেকআপ করে আমি রোগমুক্ত বলে সমিধান দিয়েছে। ডাক্তররাঁ বলা মতে, এক বছর পর আমি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে সক্ষম হব। এখন আমি জ্বালবিহীন লিকুইড আহার গ্রহণ করতেছি, তখন আমি স্বাভাবিকভাবে আহার গ্রহণ করতে সক্ষম হব।
ক্যান্সার ছোঁয়াচে বলে মানুষের মনে একটা ভ্রান্ত ধারণা আছে, সরকার উদ্যোগ নিয়ে এই ভ্রান্ত ধারণা দূর করা উচিত। এই ভুল ধারণার জন্য রোগীরা অনেক সময় অবহেলার শিকার হতে হয়। আগে একটি ধারণা ছিলো, ক্যান্সার হলে সেই ব্যাধি থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। অবশ্যে অনেক বিখ্যাত লোক বিশেষকরে সিনেমার সাখে জড়িত লোক- দিলীপ কুমার, রাজকুমার, রাজেশ খান্না, ফিরোজ খান(লিভার ক্যান্সার),বিনোদ খান্না, ম্যাক মোহন, ইরফান খান, ঋষি কাপুর,পৃথ্বীরাজ কাপুর, জুনিয়র মেহমুদ(ব্লাড ক্যান্সাৰ),রাজেন্দ্র কুমার প্রভৃতি অভিনেতাবৃন্দ ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।অবশ্যে ক্রিকেটার যুবরাজ সিংহ, আংশুম্যান গায়কোয়াড, ক্রিকেটার নবজ্যোত সিংহ সিন্ধুর স্ত্রী ক্যান্সার থেকে মুক্তি লাভ করেছে।তাই বলতে পারা যায়, ক্যান্সার দূরারোগ্য ব্যাধি নয়। সময়মতে চিকিৎসা করালে ক্যান্সার থেকেও মুক্ত হওয়া সম্ভব।

